মেহেরপুরে কারাবন্দি ভাইয়ের হাতকড়া পরা অবস্থায় মেজো ভাইয়ের জানাজায় অংশগ্রহণ
মেহেরপুরে পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ইকবাল হোসেন বুলবুলের জানাজায় এক অস্বাভাবিক ও আবেগঘন দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। শনিবার (১৪ মার্চ) রাত ১০টায় মেহেরপুর শহরের ড. শহীদ শামসুজ্জোহা পার্ক প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই জানাজায় অংশ নিতে কারাবন্দি ছোট ভাই সরফরাজ হোসেন মৃদুলকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে তাকে কড়া পাহারায় নিয়ে আসা হয় এবং তার হাতে হাতকড়া লাগানো ছিল, যা উপস্থিত স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর আবেগের সৃষ্টি করে।
পরিবারের দুঃখজনক ঘটনা ও রাজনৈতিক পটভূমি
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ইকবাল হোসেন বুলবুল শনিবার ভোরে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি সাবেক সংসদ সদস্য ছহিউদ্দিন বিশ্বাসের মেজো ছেলে এবং সাবেক জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের মেজো ভাই হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে সাবেক এই মন্ত্রী ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন, যা পরিবারের জন্য একটি কঠিন সময় তৈরি করেছে।
অন্যদিকে, নাশকতার মামলায় মেহেরপুর জেলা কারাগারে বন্দি রয়েছেন তার ছোট ভাই সরফরাজ হোসেন মৃদুল, যিনি জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ভাইয়ের জানাজায় অংশ নিতে পরিবারের পক্ষ থেকে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তা মঞ্জুর করে।
জানাজায় কারাবন্দি ভাইয়ের উপস্থিতি ও প্রতিক্রিয়া
রাতেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাহারায় সরফরাজ হোসেন মৃদুলকে জানাজাস্থলে নিয়ে আসা হয়। হাতকড়া পরা অবস্থায় ভাইয়ের জানাজায় তার উপস্থিতি সেখানে উপস্থিত রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চাঞ্চল্য ও সমবেদনার সৃষ্টি করে। অনেকেই এই দৃশ্য দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন, যা স্থানীয়ভাবে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
জানাজা শুরুর আগে পরিবারের সদস্য, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ মরহুমের স্মৃতি চারণ করে বক্তব্য রাখেন। তারা তার জীবন ও কর্মের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন। জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়, যা একটি শোকাহত পরিবারের জন্য সাময়িক সান্ত্বনা বয়ে আনে।
দাফন পরবর্তী অবস্থা ও কারাগারে প্রত্যাবর্তন
দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সরফরাজ হোসেন মৃদুলকে পুনরায় জেলা কারাগারে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে নিরাপদে কারাগারে পৌঁছে দেন, যা এই ঘটনার একটি আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি টানে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং মানুষের মধ্যে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
এই ঘটনা কারাবন্দিদের মানবিক অধিকার ও পারিবারিক বন্ধনের গুরুত্বকে সামনে নিয়ে এসেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন যে, এমন পরিস্থিতিতে হাতকড়া ব্যবহার কতটা যৌক্তিক ছিল, যদিও কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এটি প্রয়োজনীয় মনে করেছে। মেহেরপুরের এই ঘটনা দীর্ঘদিন মানুষের স্মৃতিতে থাকবে এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে এর প্রভাব লক্ষ্য করা যেতে পারে।



