ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে শোকপ্রস্তাব গৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশিষ্ট ব্যক্তিদের স্মরণে একটি শোকপ্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন, যা ঐতিহ্যবাহী রেওয়াজ অনুসরণ করে সম্পন্ন হয়। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়, যেখানে শোকপ্রস্তাব উপস্থাপনের পর বিভিন্ন দিক থেকে নাম সংযোজনের প্রস্তাব আসে।
শোকপ্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ
শোকপ্রস্তাবে প্রাথমিকভাবে খালেদা জিয়ার পাশাপাশি সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, পোপ ফ্রান্সিস এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়াও, মতিয়া চৌধুরী, মোস্তফা মহসীন মন্টু, রমেশচন্দ্র সেন এবং মাহমুদুল হাসানসহ অন্যান্য রাজনীতিকদের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। শোকপ্রস্তাব উত্থাপনের পর চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী এবং ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য মশিউর রহমানের নাম যুক্ত করার অনুরোধ জানান, যা স্পিকার অনুমোদন করেন।
বিরোধী দলের ভূমিকা ও অতিরিক্ত নাম সংযোজন
বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান দাঁড়িয়ে বলেন যে শোকপ্রস্তাবে কিছু নাম বাদ পড়েছে এবং তিনি বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে কথা বলার সুযোগ দিতে অনুরোধ করেন। তাহের তার বক্তব্যে শোকপ্রস্তাবকে একপেশে বলে উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতে সংসদকে নিরপেক্ষ ও প্রাণবন্ত করতে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি মতিউর রহমান নিজামী, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, আবদুস সোবহান, শেখ আনছার আলী, রিয়াসাত আলী, আবদুল খালেক মণ্ডল, হাফেজা আছমা খাতুন, রোকেয়া আনছার, সুলতানা রাজিয়া, রাশেদা খাতুন, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, এ কে এম ইউসুফ, নাজির আহমেদ, কামারুজ্জামান, আবদুল কাদের মোল্লা ও মীর কাসেম আলীর নাম উল্লেখ করে সেগুলো অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। এছাড়া, তিনি শাপলা চত্বরের ঘটনা প্রসঙ্গে ‘জামায়াতে ইসলামী’র বদলে ‘হেফাজতে ইসলাম’ বলা উচিত বলে মন্তব্য করেন এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে প্রায় দুই হাজার শহীদের কথা বলেন, শরিফ ওসমান হাদির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
স্পিকারের প্রতিক্রিয়া ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিরোধীদলীয় উপনেতার উল্লেখিত নামগুলো শোকপ্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানান। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে ছালেহা খানম, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, কামাল ইবনে ইউসুফ ও নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টুর নামও যুক্ত করা হবে। পরবর্তীতে, চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম গৌতম চক্রবর্তী, এম এ মতিন, মুজিবুর রহমান মঞ্জু, আনোয়ারুল হোসেন খান এবং এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকারের নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেন এবং কোনো সাবেক সংসদ সদস্য বা বিশিষ্ট ব্যক্তির নাম বাদ পড়লে তা সংসদ সচিবালয়কে জানাতে বলেন। বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম শরিফ ওসমান বিন হাদি, আবরার ফাহাদ এবং ফেলানী খাতুনের নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করেন, যা স্পিকার সমর্থন করেন। এছাড়া, জুলাই আন্দোলনে নিহত আবু সাঈদ, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ, শাহারিয়ার খান আনাস, মেহেদি হাসান জুয়েল, ফারহান ফাইয়াজসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের বরেণ্য নাগরিকদের নামও শোকপ্রস্তাবে যুক্ত করা হয়। সর্বশেষে, আলোচনা শেষে শোকপ্রস্তাবটি গৃহীত হয়, যা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঐতিহাসিক প্রথম অধিবেশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



