মমতার আক্ষেপ: বাংলাদেশের শান্তিপূর্ণ নির্বাচন দেখে ভারতের গণতন্ত্র নিয়ে প্রশ্ন
বাংলাদেশের নির্বাচন দেখে মমতার আক্ষেপ, ভারতের গণতন্ত্র নিয়ে প্রশ্ন

বাংলাদেশের শান্তিপূর্ণ নির্বাচন দেখে মমতার আক্ষেপ, ভারতের গণতন্ত্র নিয়ে তীব্র প্রশ্ন

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ আখ্যা দিয়ে গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। গত সোমবার পশ্চিমবঙ্গের সচিবালয় নবান্নে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মনোভাব ব্যক্ত করেন, যা ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নিয়ে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করেছে।

প্রতিবেশী দেশের উদাহরণে ভারতের গণতন্ত্র নিয়ে সংশয়

মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, "যেখানে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হতে পারে, সেখানে ভারতে, বিশেষত বাংলায়, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে ক্রমাগত প্রশ্ন উঠছে কেন?" তিনি উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হয়েছে, অথচ ভারতে বিশেষ করে বাংলায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে, যা গণতন্ত্রের জন্য একটি গুরুতর হুমকি।

মমতা ব্যানার্জি আরও বলেন, "কয়েকদিন আগেই বাংলাদেশের নির্বাচন হয়েছে। প্রত্যেকে ভেবেছিল হয়তো সহিংসতা বা গণ্ডগোল হবে, কিন্তু সবাই দেখলেন সেখানে কেমন শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে।" তিনি ভারতকে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করে যোগ করেন যে এই বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং তাদের এদিকে দৃষ্টি দেওয়া উচিত।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ভারতের নির্বাচন কমিশনকে সরাসরি লক্ষ্য করে "তুঘলকি কমিশন" হিসাবে আখ্যায়িত করেন। তার অভিযোগ, "আপনাদের এই হুমকির সংস্কৃতি পুরো গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দিয়েছে। গণতন্ত্রকে বুলডোজ করে দেওয়া হয়েছে, এবং এটা গণতন্ত্রকে খতম করার একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্ত। এমনকি রাজতন্ত্রেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এরপর তিনি কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনারদের একযোগে সমালোচনা করে বলেন, "নির্বাচন কমিশন প্রত্যেকটি জেলা শাসকদের হুমকি দিয়ে বলছেন, 'আপনাদের চাকরি আমার হাতে।' কিন্তু আপনার চাকরি কার হাতে? ২০২৬ সালের পর তো কেন্দ্রের এই সরকারই থাকবে না। এইটুকু আমরা বলে দিচ্ছি, ভালো করে খোঁজ রাখুন।"

মমতা ব্যানার্জির এই মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে যখন ভারত আগামী নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে। তার বক্তব্য বাংলাদেশের নির্বাচনী সাফল্যকে একটি রেফারেন্স পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করে ভারতের অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক চ্যালেঞ্জগুলোর উপর আলোকপাত করেছে।