জুলাইয়ের রক্তের দাগ মুছতে না দেওয়া পর্যন্ত বিতর্ক চলবে: তথ্যমন্ত্রী
জুলাইয়ের রক্তের দাগ নিয়ে বিতর্ক চলবে: তথ্যমন্ত্রী

জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, আওয়ামী লীগ জুলাইয়ের রক্তের দাগ মুছে না ফেলা পর্যন্ত এ বিতর্কের মীমাংসা হবে না। একইভাবে একাত্তরের গণহত্যার প্রশ্নে গ্রহণযোগ্য অবস্থান না নেওয়া পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিতর্ক চলবে।

বিতর্ক ও সংসদের বৈচিত্র্য

মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল একদিকে এই বিতর্ক চালিয়ে যাবে সংবিধানের মধ্যে, সংসদের মধ্যে, গণতন্ত্রের মধ্যে এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্যে এবং এর বাইরে তা যেতে দেবে না, এ বিষয়ে আপস করা হবে না।’ বুধবার বেলা ১১টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নেন সংসদ সদস্যরা। মাগরিবের বিরতির পর বক্তব্য দেন তথ্যমন্ত্রী।

বিরোধীদলীয় নেতার প্রতি ইঙ্গিত

বিরোধীদলীয় নেতার প্রতি ইঙ্গিত করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বিরোধী দলের আসনে এমন একজন ব্যক্তি আছেন, যাঁর সান্নিধ্য কারাগারে পাওয়ার সুযোগ হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, ‘আমার জানামতে, তিনি ইসলামী ছাত্রসংঘ বা এ রকম একটা প্রচলিত ছাত্রসংগঠনের প্রোডাকশন হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে আসেননি। তিনি তাঁর নিজস্ব চিন্তা থেকেই জামায়াতে ইসলামীকে দেখেন এবং নেতৃত্ব দেন।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ: ব্যতিক্রমী বৈচিত্র্য

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদকে ইতিহাসের ব্যতিক্রম আখ্যা দিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের বাংলাদেশের সংসদের এই যে বৈচিত্র্য, এই বৈচিত্র্যের সঙ্গে বিগত ১২টি জাতীয় সংসদের তেমন কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যাবে না।’ তিনি বলেন, অতীতে দেশের রাজনীতি মূলত দ্বিদলীয় কাঠামোয় আবদ্ধ ছিল। কিন্তু এবার ভোটের পরিসংখ্যান ও সংসদের চিত্র ভিন্ন বাস্তবতা নির্দেশ করছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জামায়াতের নির্বাচনী ফল

জামায়াতে ইসলামীসহ ১১–দলীয় জোটের নির্বাচনী ফল নিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘জামায়াত বাংলাদেশে স্বতন্ত্রভাবে যতবার নির্বাচন করেছে, ততবারই ৫ শতাংশের মধ্যেই তার ভোট সীমাবদ্ধ ছিল। এবারের নির্বাচনে তার ভোটের পরিসংখ্যান পরিবর্তন হয়েছে। এই প্রথম বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভোটের পরিসংখ্যান থেকে শুরু করে আমরা যদি এই সংসদের চিত্র দেখি এবং পালিয়ে থাকা ফ্যাসিবাদের সমর্থক ভোটারদের মধ্যে যাঁরা বিরাজ করেন, তাঁরা এবার কোথায় ভোট দিয়েছেন, আমরা জানি না।’ জামায়াতসহ ১১–দলীয় জোটের এবারের নির্বাচনের জাদুকরি সংখ্যা গবেষণার দাবি রাখে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অর্থনীতি ও বিদ্যুৎ সংকট

একটি কঠিন সংকটে বিএনপি সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আজকে এই সংসদে যখন প্রবেশ করেছি, তখন এমন একটা বাংলাদেশকে নিয়ে প্রবেশ করেছি, যেখানে প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণ এই দেশের ঘাড়ে চেপে আছে।’ তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় অর্থমন্ত্রী এ বিষয়ে কাজ করছেন এবং এক মাসের মধ্যে ৮ লাখ কোটি টাকার বাজেট পেশ করা হবে।

বিদ্যুৎ খাতের সংকটের প্রসঙ্গ টেনে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘বিদ্যুৎমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পরেই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সংকট মোকাবিলা করছেন।’ এ সংকট মোকাবিলায় বিরোধী দলের সমর্থনসহ সংসদে একটি জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অর্থনীতির অগ্রগতি

অর্থনীতির সূচকে কিছু অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিএনপি যেদিন ক্ষমতা গ্রহণ করে, সেদিন শেয়ারবাজারে দৈনিক টার্নওভার ছিল ৫০০ কোটি টাকার মতো, গতকাল তা ১ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। রেমিট্যান্সেও উন্নতির ছোঁয়া লেগেছে।’

বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান

সামগ্রিকভাবে সরকার সংকট উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে উল্লেখ করে বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘১১–দলীয় জোটকে আমি বিনীতভাবে অনুরোধ করব, আপনারা যেমন করে ঐক্যবদ্ধভাবে কমিটিতে অংশগ্রহণ করেছেন…ঠিক তেমনি করে অন্যান্য আচরণগুলোতেও আপনারা গঠনমূলক থাকার চেষ্টা করবেন।’

রাজনৈতিক আচরণের উৎস

রাজনৈতিক আচরণের উৎস প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জানি যেকোনো আচার-আচরণ তার উৎস থাকে রাজনৈতিক দলের ইতিহাসে, তার ঐতিহ্যের মধ্যে।’ রাজনীতিতে আদর্শগত সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যখন কেউ পবিত্র ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে, যখন কেউ স্বাধীনতার চেতনা নিয়ে ব্যবসা করতে চায়…তখন সেই সমস্ত রাজনৈতিক দল এবং নেতা–কর্মীদের এই ধরনের আচার-আচরণের সমস্যা হতে বাধ্য।’

আওয়ামী লীগ ও জামায়াত প্রসঙ্গ

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘যদি পরাজিত আওয়ামী লীগ আবার এই সংসদে কোনো দিন ফিরে আসে, সে যদি দাবি করে যে ২৪-এর জুলাই গণহত্যার কথা বলা যাবে না, তাহলে তার গা থেকে তার হাত থেকে কিন্তু রক্তের দাগ মোছা যাবে না।’

একই প্রসঙ্গে জামায়াতের অতীত ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘১১–দলীয় জোটের প্রধান দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীসহ তাদের সকল সহকর্মীদের মনে রাখতে হবে যে তারা ১৯৭১–এর মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলেন…এমনকি তারা এই মুহূর্ত পর্যন্ত বক্তৃতায় অনেকেই বলেছেন, তারা শরিয়াহ আইন কায়েম করতে চায়।’