জাতীয় সংসদের হুইপ এম. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, সাংবাদিকদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য ওয়েজ বোর্ড প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, “সাংবাদিকরা বাঁচলে বাংলাদেশের রাজনীতি বাঁচবে।” মঙ্গলবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৩তম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের দাবি
হুইপ বলেন, “এখনও নবম ওয়েজ বোর্ড চলছে কিন্তু মালিকদের কারণে সেটা বাস্তবায়িত হয়নি। সাংবাদিকরা ভালো থাকলে আমরা ভালো থাকবো। সরকারি গেজেটও হয়েছে কিন্তু এটা শিল্পের মর্যাদা পায়নি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, অনেক গণমাধ্যমে সাংবাদিকরা নিয়মিত বেতন পান না। তিনি চান, সরকারি কর্মচারীদের মতো যোগ্যতা অনুযায়ী সাংবাদিকদেরও বেতন দেওয়া হোক।
সাংবাদিকদের জবাবদিহি প্রসঙ্গ
রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু কিছু সাংবাদিকের সমালোচনা করে বলেন, যারা অতীতে রাজনৈতিক নেতাদের চরিত্র হনন করেছেন এবং দেশের সার্বভৌমত্ব নষ্ট করতে চেয়েছেন, তাদের জবাবদিহি দরকার। তিনি বলেন, “যারা ওয়ান ইলেভেনের নায়ক ছিল, যারা ওয়ান ইলেভেন নিয়ে এসেছিল, যারা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব নষ্ট করতে চেয়েছিল, বিনিষ্ট করতে চেয়েছিল, যারা ইসলামকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল, যারা আমাকে জঙ্গি বানিয়েছিল, ব্যারিস্টার আমিনুল হককে জঙ্গি বানিয়েছিল, মতিউর রহমান নিজামীকে জঙ্গি বানিয়েছিল, দেলোয়ার হোসেন সাঈদকে জঙ্গি বানিয়েছিল— এসব সাংবাদিকদের অবশ্যই জবাবদিহি দরকার।”
রাজনীতিতে ভীতি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার
জাতীয় সংসদের এই হুইপ বলেন, “আমরা রাজনীতি করি দেশের জন্য, আমার সন্তানরা আজ ভয়ে রাজনীতি করতে সাহস করে না। যে ভীতির রাজনীতি আওয়ামী লীগ-শেখ হাসিনা দিয়ে গেছে। আমাদের সন্তানদের সেই ভয়টা আজ কাটানোর সুযোগ হয়েছে।” তিনি উল্লেখ করেন, যাদের আত্মত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে গণতন্ত্র অর্জিত হয়েছে, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, তারেক রহমান ও বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে শুরু হওয়া পথে যত ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত হোক না কেন, ফ্যাসিস্টরা যেন আগামী দিনে সুযোগ না পায়।



