সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে আপিল
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে আপিল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন আগামী ১২ মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) যাচাই-বাছাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে আজ রবিবার (২৬ এপ্রিল)। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির প্রার্থী মাধবী মারমার প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে আপিল করেছেন দলটির ছাত্র সংগঠনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক চন্দ্রা চাকমা।

রবিবার (২৬ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) বরাবর তিনি এই আপিল করেন।

আপিল আবেদন জমা দেওয়ার পর চন্দ্রা চাকমা সাংবাদিকদের বলেন, 'আমি চন্দ্রা চাকমা। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনীত নারী প্রার্থী মাধবী মারমা বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্যের পদ থেকে পদত্যাগ না করে, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া গত ২১ এপ্রিল জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন; যা আইনগতভাবে অবৈধ। সে জন্য আমি তার মনোনয়নপত্র বাতিল করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর আবেদন করেছি। আশা করি, নির্বাচন কমিশন থেকে এ বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী ছিলেন কিনা জানতে চাইলে চন্দ্রা চাকমা বলেন, 'হ্যাঁ, আমিও একজন প্রার্থী ছিলাম। বিএনপি থেকে নমিনেশন কিনেছিলাম, নির্বাচন কমিশন অফিস থেকেও আমি কিনেছিলাম।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সরকার স্থানীয় সরকারগুলোকে বিলুপ্ত করেছিল, পার্বত্য জেলাগুলোতে কী বিলুপ্ত হয়নি– প্রশ্নে চন্দ্রা চাকমা বলেন, 'অন্যান্য জেলা পরিষদের আইন কিন্তু এক ধরনের আর তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের আইন এক ধরনের। জেলা পরিষদের আইনে লেখা আছে, পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য ইত্যাদি জনসেবক বলে গণ্য হবেন। এটা একটা বিষয়। আরেকটি বিষয় হলো, চেয়ারম্যান ও সদস্যদের পদত্যাগ। সরকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষর যুক্ত পত্রে চেয়ারম্যান এবং চেয়ারম্যানের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষর যুক্ত পত্রে যে কোনও সদস্য স্বীয় পদ ত্যাগ করতে পারবেন। পদত্যাগ গৃহীত হওয়ার তারিখ হতে পদত্যাগ কার্যকর হবে এবং পদত্যাগকারীর পদ শূন্য হবে। তিনি কিন্তু পদত্যাগ করেননি। তিনি ২১ তারিখে এখানে তার মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। যার কারণে তিনি জেলা পরিষদের আইন যেমন লঙ্ঘন করেছেন, তেমনই নির্বাচন কমিশনের যে আইন আছে, সেটাও লঙ্ঘন করেছেন।'

তবে চন্দ্রা চাকমার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাধবী মারমা। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, 'আমার ইতোমধ্যে পদত্যাগ করা হয়ে গেছে এবং এটার কপি অনুমোদন হয়ে যেখানে যাওয়ার সেখানে চলেও গেছে। আমি ২০ এপ্রিল পদত্যাগ করেছি।'

পদত্যাগের বিষয়টি হলফনামায় উল্লেখ করেছেন কি-না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'ফরমেটে তো উল্লেখ নাই। ওখানে তো এই তথ্য দিতে বলতে হবে। সেটা তো নেই।'

এদিকে ২০ এপ্রিল সই করা মাধবী মারমার পদত্যাগপত্র রিভিস করেছেন জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মুহা. আবুল মনসুর। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, 'পদত্যাগপত্রের ফাইলটি আজ (২৬ এপ্রিল) আমার কাছে এসেছে।'