রাজপথে নামলে সরকারের পতন দ্রুত হবে: ইসহাক সরকার
রাজপথে নামলে সরকারের পতন দ্রুত হবে: ইসহাক সরকার

জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেওয়া যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার বলেছেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমেই আমরা বর্তমান স্বাধীনতা ও কথা বলার অধিকার পেয়েছি। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি বর্তমান শাসকগোষ্ঠী আবার ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটে, তবে আমরা পুনরায় রাজপথে নামব এবং তাদের পতন ঘটাতে বেশি সময় লাগবে না।

এনসিপিতে যোগদান

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকালে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এনসিপিতে যোগ দেন তিনি। সেখানে বক্তৃতাকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন। ইসহাক সরকার আরও বলেন, সরকারের উচিত গণতান্ত্রিক অধিকার, কথা বলার স্বাধীনতা ও মৌলিক মানবাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া। অন্যথায় আমরা রাজপথে নামতে বাধ্য হব।

গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি

তিনি স্মরণ করেন, গত ৩৬ জুলাই ঐতিহাসিক গণবিপ্লবের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটে, যাতে অনেক রক্ত ও ত্যাগের বিনিময় হয়েছে। তখন ছাত্ররা রাজপথে নামলে তিনি নিজের তাগিদে কর্মীবাহিনী নিয়ে তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছিলেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইসহাক সরকার নিজেকে বিপ্লবী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেন, তিনি জীবনের যৌবনের শ্রেষ্ঠ সময়গুলো কারাগারে কাটিয়েছেন। প্রায় ১০ বছর বিভিন্ন মেয়াদে জেলে ছিলেন এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে বহু সহযোদ্ধা হারিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, এনসিপির মাধ্যমেই বাংলাদেশের মানুষের মুক্তি সম্ভব এবং এই দলই দেশের মুক্তির সনদ নির্ধারণ করবে।

ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে তার পরিবারের বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা হয়েছে। শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কথা বলায় নিপীড়ন সহ্য করেছেন, কিন্তু কখনো আপস করেননি। তিনি তার পুরনো দলের সমালোচনা করে বলেন, সেই দল গণতান্ত্রিক ধারা থেকে সরে গেছে এবং ১৪০০ শহীদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে কেউ টিকতে পারবে না। তিনি তাদের গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসার আহ্বান জানান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এনসিপিতে যোগ দেওয়া এই নেতা ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ার প্রসঙ্গে বলেন, বর্তমান সরকারও পূর্বের সরকারের মতোই হত্যাকারীদের গ্রেফতার করেনি। তিনি প্রশ্ন রাখেন, কেন তাদের গ্রেফতার করা হয়নি এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত। তিনি পূর্বের অশুভ প্রভাব ফিরে আসার আশঙ্কা প্রকাশ করে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আহ্বান জানান।

সব শাসনামলে কারাবাস

ইসহাক সরকার বলেন, তিনি বিএনপি ও আওয়ামী লীগ উভয় শাসনামলেই কারাগারে ছিলেন এবং সব শাসনামলেই স্বৈরশাসন দেখেছেন ও সহ্য করেছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো বিদেশি শক্তি যদি বাংলাদেশের মাটিতে শাসন করতে চায়, তা জনগণ কখনো মেনে নেবে না।

তিনি আরও বলেন, তার পরিবারের ওপর অত্যাচার হলেও কারও প্রতি ব্যক্তিগত ক্ষোভ নেই। তিনি এনসিপির মাধ্যমেই দেশের জনগণের নিরাপত্তা, অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে বলে বিশ্বাস করেন।

এনসিপির ভূমিকা

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ টিকে থাকলে এবং শেখ হাসিনা পালিয়ে না গেলে তাদের জেলে পচতে হতো বা ফাঁসির মঞ্চে ঝুলতে হতো। এনসিপির কারণেই তিনি আজ স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছেন। তিনি মনে করেন, সারাদেশের জনগণ এনসিপির দিকে তাকিয়ে আছে। এনসিপি রাজপথে নামলে জনগণ অধিকার ফিরে পাবে, আর যদি ঝিমিয়ে যায়, তাহলে দেশের ভাগ্যে আবার অন্ধকার নেমে আসবে। তাই তিনি প্রত্যেক কর্মীকে আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পুনরায় রাজপথে ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দেন।

সবশেষে তিনি বলেন, তিনি সারাজীবন সততার সঙ্গে রাজনীতি করেছেন এবং যেকোনো দায়িত্ব ঈমান ও সততার সঙ্গে পালন করতে চান। প্রয়োজনে জীবন বিসর্জন দিতেও প্রস্তুত। তিনি বলেন, দেশের জনগণ পরিবর্তন চায়; যদি তা না আনা হয়, তবে রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমেই তা আদায় করে নেওয়া হবে। জনগণের অধিকার হরণকারীদের বিরুদ্ধে আবারও লড়াই গড়ে তোলা হবে।