শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্ত্রের ঝনঝনি কেন: সংসদে জামায়াত এমপির প্রশ্ন
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্ত্রের ঝনঝনি কেন: সংসদে প্রশ্ন

বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় এখন অস্ত্রের ঝনঝনি কী কারণে হচ্ছে? কী কারণে অস্ত্র হাতে, কুড়াল হাতে মানুষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ঢুকছে? মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করার চেষ্টা করছে? বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) চুয়াডাঙ্গা- ২ আসনের বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা মো. রুহুল আমিন জাতীয় সংসদে এই প্রশ্ন রেখেছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২০তম দিন বিকালে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে এই প্রশ্ন রাখেন তিনি। এসময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

বাংলাদেশে ভাত খায় আর কুলি ফেলে ইন্ডিয়ায়

রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় মো. রুহুল আমিন বলেন, “আমার অঞ্চলের দুই নাম্বার আসনের সম্মানিত ভোটার এবং সম্মানিত জনগণের যাদের অক্লান্ত পরিশ্রম, দোয়া এবং চেষ্টার ফলশ্রুতিতে এই মহান সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। আমার অঞ্চলটা এমন একটি অঞ্চল যে, বাংলাদেশে ভাত খায় আর কুলি ফেলে ইন্ডিয়ায়। এরকম একটা বর্ডার অঞ্চলে বাড়ি আমার। এই অঞ্চলে মানুষ সারাদিন পরিশ্রম করে আর দিন শেষে চায়ের দোকানে এসে টকশো করে। নিজেরা নিজেদের মতোই ভালো থাকার জন্য সেই টকশোর কিছু কথা আজ এই মহান সংসদে বলতে চাই।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখন অস্ত্রের ঝনঝনি কী কারণে

মো. রুহুল আমিন বলেন, “বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সহজ সাবলীলভাবে চলাফেরার যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন সেই উদ্যোগগুলো অত্যন্ত চমৎকারভাবে সাধারণ মানুষ গ্রহণ করে। কিন্তু সাধারণ মানুষ এই কথা বলার পর আবার তারা বলেন— এই ভালো একজন প্রধানমন্ত্রীর পরও বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন অস্ত্রের ঝনঝনি কী কারণে হচ্ছে? কী কারণে অস্ত্র হাতে, দা হাতে, কুড়াল হাতে মানুষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ঢুকছে, মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করার চেষ্টা করছে। মানুষ আমার অঞ্চলে শুধুমাত্র শুধুমাত্র গরু কেনাকে কেন্দ্র করে আপন সহদর ভাইকে দিনের বেলায় পিটিয়ে হত্যা করেছিল, তার বিচার এখনও হয়নি। এই রোজার মাসে ইফতারি করার পর আপন সহদর হাসাদা বাজারে দুই ভাইকে হত্যা করেছে। তার বিচার এখনও হয়নি শুধুমাত্র ইটের প্রাচীর দেওয়াকে কেন্দ্রে একজন আরেকজনকে দিনে দুপুরে হত্যা করে ফেলেছে। সেই বিচার এখনও হয়নি। ভিজিএফ চাল নিয়ে গ্যাঞ্জামের পর একদল আরেক দলের ওপরে চড়াও হয়ে তাকে হত্যা করেছে সে বিচার এখনও হয়নি।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না কী কারণে

মো. রুহুল আমিন বলেন, “বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অত্যন্ত চমৎকার অত্যন্ত সুন্দর কথা বলেন। দাড়ি-কমা দিয়ে কথা বলতে পারেন। এত স্মার্ট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমরা আর কোনোদিন পাইনি। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তিনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না কী কারণে— এই জাতি সেটা জানতে চায়। আমাদের সন্তানরা দিনের পর দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাদের বুকের হাড় বাড়ানো এবং তাদের চাপা ভাঙ্গা দেখলে মনে হয় তাদের মাথা থেকে প্যান্টটাও পড়ে যায়। এরকম একটা পরিস্থিতি হয়েছে। এই অঞ্চলে একটা ল্যাব সেন্টার তৈরির মাধ্যমে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের জন্য আমি আহ্বান করছি।”

কেরু অ্যান্ড কোম্পানিকে ১২ মাস চালানোর আহ্বান

মো. রুহুল আমিন বলেন, “আমার অঞ্চলে দুটি উপজেলা, দুটি উপজেলায় ডিগ্রি কলেজ দু’টি আছে। কিন্তু মাননীয় স্পিকার স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হলো আমার সেই দুটো ডিগ্রি কলেজ এখনও জাতীয়তাকরণ করা হয়নি। আমি জাতীয়করণ করার জন্য উদাত্ত আহ্বান রাখছি। আমার অঞ্চলে একটি মাত্র ভারী শিল্প কেরু অ্যান্ড কোম্পানি। বাংলাদেশের সব চিনিকল যেখানে লস দেখায় কেরু অ্যান্ড কোম্পানি সেখানে লাভের মধ্যে গিয়েছে। আমি অনুরোধ করবো এটাকে বিএমআরই করে ১২ মাস কীভাবে চালানো যায় তার উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য।”

হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয় দাবি

মো. রুহুল আমিন বলেন, “আজ আমাদের বেশ খুশি লাগে যখন বিরোধী দলের প্রস্তাব সরকারি দল মানে সরকারি দলের প্রস্তাব বিরোধী দল মানে। আমরা আজ সরকারি সবাইকে অনুরোধ করতে চাই দুর্নীতির বিরুদ্ধে আসুন আমরা একমত হই। চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে আসুন আমরা একমত হই। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আসুন আমরা একমত হই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অরাজকতার বিরুদ্ধে আসুন আমরা একমত হই। এই জাতিকে নতুন একটি স্বপ্ন দেখাই— জাতিকে নতুন দিনের সূর্য উদয়নের জন্য ধন্যবাদ। আমার যে অঞ্চল সেই অঞ্চলে হাসপাতাল নেই, ডায়াবেটিস হাসপাতাল নেই, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নেই, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই— এই নেই-নেই এর মধ্যে রেখে আমি আপনাদের কাছে এসেছি। আমরা আপনার কাছে আমরা গাড়ি বাড়ি কিচ্ছু চাই না। শুধুমাত্র শান্তি পেতে চাই। এই শান্তি আনয়নের জন্য অঞ্চলের দিকে দৃষ্টি রাখবেন।”

দর্শনাকে উপজেলা দাবি

মো. রুহুল আমিন বলেন, “আমরা যে অঞ্চলে বসবাস করি— সে অঞ্চলে প্রধানমন্ত্রী কোনোদিন যায়নি। প্রধানমন্ত্রীকে দাওয়াত দিয়ে রাখলাম। এই অঞ্চলে তিনি যদি যান তাহলে দেখবেন এই অঞ্চলের মানুষ কতটা কষ্টে আছে। আমার দর্শনায় একটি থানা আছে। এই থানাকে উপজেলা করে দিলে আমার অঞ্চলের মানুষ—” এরপর সময় শেষ হয়ে গেলে এই সংসদ সদস্যের মাইক বন্ধ করে দেন স্পিকার।