ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে উঠে এলো নানা টুকিটাকি ঘটনা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৮তম দিনে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সংসদে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। এই অধিবেশনে গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন ও জাতীয় ইস্যু নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি উঠে এসেছে বেশ কিছু ছোটখাটো ঘটনা, মন্তব্য ও অনাকাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত, যা জনমনে আলাদা করে নজর কেড়েছে। এসব বিষয় কখনো বিতর্ক উসকে দিয়েছে, আবার কখনো তৈরি করেছে হাস্যরসের পরিবেশ।
স্পিকারের রসিকতায় খাবারের বিষয়ে হাসির মূহুর্ত
জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে এবার খাবার-দাবার নিয়ে হাসির পরিবেশ তৈরি করলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। অধিবেশন চলাকালে তিনি লক্ষ্য করেন, এক সংসদ সদস্য চুপিচুপি কিছু খাচ্ছেন। বিষয়টি দেখে তিনি মাইকেই জিজ্ঞেস করেন, তিনি কী খাচ্ছেন এবং চা নাকি পান করছেন। জবাবে ওই সদস্য জানান, তিনি গরম পানি খাচ্ছেন। এতে কিছুটা বিরক্ত হয়ে স্পিকার হালকা রসিকতা করে বলেন, “পরে আরও কী খাবেন, গড নোজ!” তবে ক্যামেরায় ওই সংসদ সদস্যের মুখ দেখা না যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, সংসদীয় রেওয়াজ অনুযায়ী, অধিবেশন কক্ষের ভেতরে চা-পান, ধূমপান কিংবা কোনও ধরনের খাবার খাওয়ার অনুমতি নেই। সংসদ সদস্যদের শৃঙ্খলা ও মর্যাদা রক্ষায় বিষয়টি সবসময় কঠোরভাবে পালন করা হয়।
মহাত্মা গান্ধীর ছাগল নিয়ে ভিত্তিহীন গল্পের প্রতিবাদ
লক্ষ্মীপুরের করপাড়ায় মহাত্মা গান্ধীর অবস্থানকালে তার ছাগল চুরি বা খেয়ে ফেলার প্রচলিত গল্পটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে সংসদকে জানিয়েছেন লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহাদাত হোসেন। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের জন্ম লক্ষ্মীপুরের করপাড়া গ্রামে। ১৯৪৬ সালে পাকিস্তান আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল এই গ্রাম থেকেই। আমরা ডাইরেক্ট একশনে গিয়েছিলাম এবং সেই প্রেক্ষিতে মহাত্মা গান্ধী আমাদের গ্রামে এসে দীর্ঘদিন অবস্থান করে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার চেষ্টা করেছিলেন। আমরা সেই মহান ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী। অথচ আমাদের গ্রামের মানুষের বিরুদ্ধে মহাত্মা গান্ধীর ছাগল খেয়ে ফেলার যে অপপ্রচার চালানো হয়, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”
কুমিল্লার সংসদ সদস্যের গাড়ির আবেদন
সংসদ সদস্যদের ট্যাক্স ফ্রি গাড়ির না নেওয়ার কথা থাকলেও উপজেলায় সংসদ সদস্যদের অফিস পাওয়ার খবর পেয়ে চলাচলের জন্য একটি গাড়িও চাইলেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় দাঁড়িয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ এ দাবি করেন সংসদে। তিনি বলেন, “অপজিশন থেকে আপনাদের সবাইকে থ্যাঙ্ক ইউ জানাচ্ছি যে, একটা বসার অন্তত জায়গা হয়েছে। আমরা লজ্জায় একটা কথা বলি না, এখন এই পার্লামেন্টের সেকেন্ড মোস্ট জুনিয়র হিসেবে একটা কথা বলছি। সেটা হচ্ছে যে আমাদের ইউএনও মহোদয়ের একটা গাড়ি থাকে, উপজেলার চেয়ারম্যানের একটা গাড়ি থাকে, আমাদের ভাড়ায় গাড়ি চালাইতে হয়। আপনাদেরকে যদি আমরা লজ্জায় এটা বলতে পারি না। আমরা এটা লজ্জায় কোথাও বলতে পারি না। এখন আমাদেরকে যদি একটা বসার ব্যবস্থা করে দিছেন। এখন মানুষের কাছে যাওয়ার জন্য যদি একটা গাড়ির ব্যবস্থা করে দেয় তাইলে আমাদের তাহলে আমাদের জন্য একটু সুবিধা হয়। মানুষের কাছে একটু যাইতে পারি।”
এই ঘটনাগুলো সংসদ অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক আলোচনার বাইরে গিয়ে সংসদ সদস্যদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও চাহিদার প্রতিফলন দেখিয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।



