লক্ষ্মীপুরের করপাড়ায় মহাত্মা গান্ধীর ছাগল চুরির গল্প মিথ্যা, বললেন সংসদ সদস্য
মহাত্মা গান্ধীর ছাগল চুরির গল্প মিথ্যা: লক্ষ্মীপুরের সংসদ সদস্য

লক্ষ্মীপুরে মহাত্মা গান্ধীর ছাগল চুরির গল্প মিথ্যা বলে দাবি সংসদ সদস্যের

লক্ষ্মীপুরের করপাড়ায় মহাত্মা গান্ধীর অবস্থানকালে তার ছাগল চুরি বা খেয়ে ফেলার প্রচলিত গল্পটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে সংসদকে জানিয়েছেন লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহাদাত হোসেন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে ঐতিহাসিক বিষয়ের অবতারণা করে তিনি এই তথ্য দেন।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে অবস্থান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৮তম দিনে সংসদে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। সংসদ সদস্য মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, “আমাদের জন্ম লক্ষ্মীপুরের করপাড়া গ্রামে। ১৯৪৬ সালে পাকিস্তান আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল এই গ্রাম থেকেই। আমরা ডাইরেক্ট অ্যাকশনে গিয়েছিলাম এবং সেই প্রেক্ষিতে মহাত্মা গান্ধী আমাদের গ্রামে এসে দীর্ঘদিন অবস্থান করে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার চেষ্টা করেছিলেন। আমরা সেই মহান ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী। অথচ আমাদের গ্রামের মানুষের বিরুদ্ধে মহাত্মা গান্ধীর ছাগল খেয়ে ফেলার যে অপপ্রচার চালানো হয়, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”

সংসদীয় আলোচনায় নিজের নির্বাচনি এলাকার ঐতিহ্য তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “লক্ষ্মীপুরের করপাড়া গ্রাম রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সচেতন। এখানকার মানুষ শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা বহন করে আসছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন অপপ্রচারের মাধ্যমে এই অঞ্চলের মানুষের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা চলছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।”

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয় উন্নয়ন ও সরকারি নীতির সমালোচনা

নিজের নির্বাচনি এলাকা লক্ষ্মীপুরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যেমন সরাসরি উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও আধুনিক হাসপাতালের প্রয়োজনীয়তার কথাও সংসদে তুলে ধরেন এই সংসদ সদস্য। সরকারি নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি স্থানীয় সমস্যা নিরসনে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আলোচনায় তিনি চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার সরকারি উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেন এবং এটিকে ‘অসম চুক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “এই ধরনের চুক্তি স্থানীয় অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এবং তা পুনর্বিবেচনা করা উচিত।”

সংসদ সদস্যের এই বক্তব্যে লক্ষ্মীপুরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে, যা স্থানীয় উন্নয়ন ও অপপ্রচার রোধে সচেতনতা বাড়াতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।