সংসদ অধিবেশনে মব সংস্কৃতির অভিযোগ, জ্বালানি সংকটে বিতর্ক ও নিরাপত্তা চাওয়ার ঘটনা
সংসদে মব সংস্কৃতি অভিযোগ, জ্বালানি বিতর্ক ও নিরাপত্তা চাওয়া

সংসদ অধিবেশনে মব সংস্কৃতির তীব্র অভিযোগ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে বিতর্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৭তম দিনটি ছিল আজ। বিকাল ৩টায় শুরু হওয়া এই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সংসদের ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন ও জাতীয় ইস্যু নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি উঠে আসে নানা ছোটখাটো ঘটনা, মন্তব্য ও অনাকাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। এসব টুকিটাকি বিষয় কখনো বিতর্ক উসকে দেয়, আবার কখনো হাস্যরসের সৃষ্টি করে। সোমবারের অধিবেশনে সংসদের এমনই কিছু উল্লেখযোগ্য টুকিটাকি ঘটনা ঘটেছে।

‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নাচ-গানের সংস্কৃতি, আমাদের আছে মবের সংস্কৃতি’

সংসদ অধিবেশনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানান রকম সংস্কৃতি থাকে। নাচের সংস্কৃতি, গানের সংস্কৃতি, অভিনয়ের সংস্কৃতি, কবিতার সংস্কৃতি। আমাদের দেশে গত দেড় বছর এবং এরপরে গত দুই মাস ধরে আমরা মবের সংস্কৃতি দেখলাম।’

তিনি তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, ‘আমরা দেখলাম বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে মব করে সরানো হয়েছে। আমরা দেখলাম বাসসের প্রধানকে মব করা হয়েছে, বরিশাল আদালতের প্রাঙ্গণে মব হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট লয়ার্স রুমে মব হয়েছে। ডেইলি স্টার, প্রথম আলো ভাঙ্গা হয়েছে। চট্টগ্রামে দেড় বছর আগে নেচে গেয়ে নাচ এবং গানের মাধ্যমে মব তৈরি করে ছিনতাইকারী সন্দেহে পিটিয়ে মারা হয়েছে। কুষ্টিয়ায় একজন কথিত পীরকে পিটিয়ে মারা হয়েছে।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রুমিন ফারহানা আরও বলেন, ‘কিছুদিন আগে আমাদের সম্মানিত মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আজ উপস্থিত আছেন। তিনি একবার না দুইবার না কয়েক দফা আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছিলেন বাংলাদেশে আর মবের কালচার হবে না। উনি আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছিলেন বাংলাদেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি হবে না, বাংলাদেশের মানুষ ন্যায়বিচার পাবে। কিন্তু আমরা দেখলাম একটির পর একটি জায়গায় মবের ঘটনা ঘটেই চলেছে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

‘আপনার বুলিতে চন্দন ফুটুক’, ডেপুটি স্পিকারকে জামায়াত আমির

জাতীয় সংসদের চলমান কার্যসূচি মুলতবি করে দেশে জ্বালানি সংকট নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দেন বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান। এর বিরোধিতা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, জাতি পরিষ্কার— দেশে জ্বালানি তেল এবং গ্যাসের কোনও সংকট নেই।

এই বক্তব্যের বিরোধিতা করে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী খুব সুন্দর করে বলেছেন— কোনও সংকট নাই, এটা আসলে সংসদের ভিতরে নাই, সংকটটা আমাদের সংসদের বাইরে। সংকট আছে বলেই খোদ হাইকোর্টের মত ভেরি সেন্সিবল জায়গায়। দুই দিন এখন এই জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে কোর্ট হবে ভার্চুয়ালি।

এসময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বিরোধীদলীয় নেতার উদ্দেশ্যে বক্তব্য রেখে বলেন, ‘এখানে পার্টিনেন্ট বিষয় হচ্ছে আলোচনা। তো আমি দেখলাম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও আলোচনা করতে চান। আপনার প্রস্তাবও আলোচনা। বাট কোশ্চেন হচ্ছে সংসদ মুলতবি করে হবে নাকি না করে হবে? আলোচনা কিন্তু হচ্ছে মুলতুবি করা না করা কোনও বিষয় না। আলোচনা হওয়া উচিত কিনা? আর আপনি যেটা বলেছেন— যেকোনও জাতীয় ইস্যুতে ট্রেজারি বেঞ্চ অ্যান্ড অপজিশন সুড ওয়ার্ক শোল্ডার টু শোল্ডার, এটা এখানে পেয়েছি। আমার মনে হয় আলোচনা হচ্ছে। এত হারমোনিয়াস পরিবেশে প্রায় আধা ঘণ্টার মতো আলোচনা অলরেডি হয়ে গেছে— সো এই আলোচনাটাই কন্টিনিউ আমরা করতে পারি আরেকটা বিধিতে। আমি এটা আগেও একটু দেখে রেখেছি সংসদকে মুলতুবি না করে, সংসদকে চলমান রেখে— সময়ের প্রেক্ষিতে আলোচনার ভিত্তিতে আধা ঘণ্টার জায়গায় এক ঘণ্টা করতে পারি, দেড় ঘণ্টা করা যেতে পারে, কিন্তু মুলতবি না রেখে। আচ্ছা ঠিক আছে। এক ঘণ্টার মধ্যে আমরা করলাম। জি, বিরোধীদলীয় নেতা। ফুল ফুটুক।’

এসময় ফ্লোর নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, ‘আপনার বুলিতে চন্দন ফুল ফুটুক। আপনি শেষে বলেছেন দেড় ঘণ্টা। আমি মেনে নিলাম। আপনারটাই কবুল। আমরা ইনশাআল্লাহ কালকে নোটিশ দেবো। আপনি আমাদেরকে সুযোগ করে দেবেন, তবে সংসদ নেতার প্রেজেন্সে আমরা এই আলোচনাটা করতে চাই। ধন্যবাদ আপনাকে।’

নিরাপত্তা চাইলেন হান্নান মাসউদ, থানা দেখালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জরুরি জনগুরুসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে জান-মালের নিরাপত্তা চান নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ। এসময় তাকে থানায় মামলা বা জিডি করার পরামর্শ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালহ উদ্দিন আহমদ।

গত পরশু হাতিয়া থেকে ফেরার পথেও তিনি হামলার মুখে পড়তে যাচ্ছিলেন জানান হান্নান মাসউদ। এসময় তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, একজন সংসদ সদস্য হয়েও যদি আমি এবং আমার নেতাকর্মীরা নিরাপদ না থাকেন, তবে সাধারণ মানুষের অবস্থা কী? গাড়িতে এখনো সন্ত্রাসীদের দেওয়া কোপের দাগ রয়েছে এবং বিটিভির সাংবাদিককে কুপিয়েছে এমন চিহ্নিত আসামিরাও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

এসময় এই ঘটনার সংসদীয় তদন্তের পাশাপাশি নিজের ও তার কর্মীদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের জোরালো হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

এরপরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ তার বক্তব্যে বলেন, সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদের উত্থাপিত বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। সংসদ সদস্যের বক্তব্যের প্রতিটি বিষয় আমি মনোযোগ দিয়ে শুনেছি। যদি হামলার এই ঘটনাগুলো সত্য হয়ে থাকে, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং সরকার অপরাধীদের ছাড় দেবে না।

এসময় সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদকে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা বা জিডি করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কেবল এই সংসদ সদস্যই নন, হাউজের যেকোনো সদস্য যদি এ ধরনের পরিস্থিতির শিকার হন বা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তবে তা যেন তাৎক্ষণিকভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা স্থানীয় থানাকে অবহিত করা হয়। সরকার দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর এবং সংসদ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।