জামায়াতের ১১ দলীয় জোটের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনীত ১৩ জনের তালিকা প্রকাশ
জামায়াতের নারী আসনে মনোনীত ১৩ জনের তালিকা প্রকাশ

জামায়াতের ১১ দলীয় জোটের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনীত ১৩ জনের তালিকা প্রকাশ

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনীত প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য। সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকার মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়।

মনোনয়নপ্রাপ্তদের বিশদ বিবরণ

মোট ১৩ জনের মনোনয়ন তালিকায় জামায়াতে ইসলামীর আটজন, এনসিপির দুজন এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, জাগপা ও জুলাই শহীদ পরিবার থেকে একজন করে প্রতিনিধি রয়েছেন। উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন:

  • জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য নূরুন্নিসা সিদ্দীকা
  • জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মারজিয়া বেগম
  • ছাত্রী সংস্থার সাবেক সভানেত্রী ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য সাবিকুন্নাহার মুন্নী
  • মহিলা জামায়াতের মিডিয়া ও প্রচার বিভাগীয় সেক্রেটারি নাজমুন নাহার নীলু
  • সিলেট মহানগর মহিলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাহফুজা হান্নান
  • বগুড়া অঞ্চল মহিলা জামায়াতের পরিচালক সাজেদা সামাদ
  • মহিলা জামায়াতের চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সেক্রেটারি শামছুন্নাহার বেগম
  • নারী অধিকার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সদস্য মারজিয়া মমতাজ

তালিকা প্রকাশ ও উপস্থিতি

১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ আনুষ্ঠানিকভাবে এই তালিকা প্রকাশ করেন। ব্রিফিংয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল হালিম, এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, জাগপার সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রচার সম্পাদক হাসান জুনাইদ উপস্থিত ছিলেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আলোচিত নামগুলো তালিকায় নেই

জোট সূত্রে জানা গেছে, জামায়াতের আমিরের স্ত্রী আমিনা শফিক এবং নায়েবে আমিরের স্ত্রী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য হাবিবা আখতার চৌধুরীর নাম প্রাথমিক আলোচনায় থাকলেও চূড়ান্ত তালিকায় তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। দলের কেন্দ্রীয় নেতারা ব্যাখ্যা দিয়েছেন যে, জামায়াতের এবারের নীতিতে এক পরিবার থেকে একজনের বেশি সংসদে মনোনয়ন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

জামায়াতে ইসলামীর সংরক্ষিত নারী আসনে প্রতিনিধিত্বের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়:

  1. ১৯৯১ সালের নির্বাচন: জামায়াতের ১৮ জন এমপি নির্বাচিত হন এবং সংরক্ষিত নারী আসনে দুজন সদস্য ছিলেন – বেগম আসমা খাতুন ও বেগম খন্দকার রাশিদা খাতুন।
  2. ১৯৯৬ সালের নির্বাচন: দলটি তিনটি আসন পেলেও সংরক্ষিত কোনো আসন লাভ করেনি।
  3. ২০০১ সালের নির্বাচন: বিএনপির সঙ্গে চারদলীয় জোটে অংশ নিয়ে জামায়াতের ১৭ জন প্রার্থী এমপি নির্বাচিত হন এবং সংরক্ষিত আসনে চারজন জায়গা পান – সুলতানা রাজিয়া, ডা. আমিনা বেগম, শাহানারা বেগম ও বেগম রোকেয়া আনসার।
  4. ২০০৮ সালের নির্বাচন: জামায়াতের ২ জন এমপি নির্বাচিত হলেও সংরক্ষিত আসন পাননি।
  5. ২০১৪ সালের নির্বাচন: বিএনপিসহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলোর মতো জামায়াতও অংশগ্রহণ করেনি।

বর্তমান ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের এই মনোনয়ন তালিকা দলটির নারী প্রতিনিধিত্বের ধারাবাহিকতায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।