প্রধানমন্ত্রীকে আ.লীগ নেতার চিঠি: ঠিকাদারি প্যাডে অভিনন্দন ও প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর দাবি
প্রধানমন্ত্রীকে আ.লীগ নেতার চিঠি: ঠিকাদারি প্যাডে অভিনন্দন

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মিরাজুল ইসলামের লেখা একটি চিঠি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া সংগঠনের এই নেতা চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

চিঠির বিষয়বস্তু

ভাইরাল হওয়া চিঠিতে দেখা যায়, মিরাজুল ইসলাম গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করায় প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। চিঠিতে তিনি রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা ও 'সবার আগে বাংলাদেশ' স্লোগানের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বের ওপর আস্থা প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব দেশের জনগণের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ঠিকাদারি প্যাডে চিঠি

জানা গেছে, চিঠিটি গত ২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে এটি কোনো রাজনৈতিক প্যাডে না লিখে পাঠানো হয়েছে 'ইফতি ইটিসিএল প্রাইভেট লিমিটেড' নামক একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল প্যাডে। মো. মিরাজুল ইসলাম ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রকল্পের সময় বাড়ানোর আবেদন

মূলত, চিঠিতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় পিরোজপুর জেলায় চলমান তাদের ঠিকাদারি প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নের সময়সীমা আরও এক বছর বর্ধিত করার দাবি জানানো হয়েছে। বর্তমানে রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা অবস্থায় ভান্ডারিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের এ ধরনের চিঠি নিয়ে স্থানীয়ভাবে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চিঠির ভাষ্য

মিরাজুলের ঠিকাদারি প্যাডের চিঠিতে লেখা ছিল, 'গত ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে দুই তৃতীয়াংশের বেশি জনসমর্থন নিয়ে বিজয়ী হয়ে আপনার নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হওয়ায় প্রাণঢালা অভিনন্দন জানাই। রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা, যুগোপযোগী নির্বাচনি ইশতেহার ও সর্বোপরি সবার আগে বাংলাদেশ স্লোগানে দেশের মানুষের একান্ত মনের কথা ফুটে ওঠার কারণেই দলের এ অসামান্য বিজয়। বাংলার জনগণ আপনাকে ও আপনার দলকে দুহাত উজাড় করে ভালোবাসা দিয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির প্রধান হিসেবে আপনার এবার জনগণকে দেওয়ার পালা। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর হিসেবে শপথ গ্রহণের পর আপনার রাষ্ট্র নায়োকচিত নেতৃত্ব ইতোমধ্যে দেশের জনগণের কাছে সীমাহীন আশার সঞ্চার করেছে। আশা করছি আপনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বাধীন সরকারের কাছ থেকে বাংলার জনগণ নিরাশ হবে না।'

মিরাজুল ইসলামের অবস্থান

এ বিষয়ে ভান্ডারিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মিরাজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি বিদেশে অবস্থান করছেন।