১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশে আওয়ামী লীগের বিচার ও নিষিদ্ধকরণের দাবি
১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশে আওয়ামী লীগের বিচার দাবি

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত গুম, খুন ও গণহত্যার বিচার, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধকরণ এবং বিচার প্রক্রিয়ার গতি নিয়ে সরকারের সমালোচনায় সরব হয়েছেন ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা। রাজধানীর বিজয়নগরে আয়োজিত এক সমাবেশ থেকে তারা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান এবং তা না হলে সরকারকে রাজনৈতিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হতে পারে বলেও সতর্ক করেন।

সমাবেশে নেতাদের বক্তব্য

মঙ্গলবার (২৩ জুন) ‘আওয়ামী ফ্যাসিস্ট কর্তৃক সংঘটিত সকল গুম, খুন ও গণহত্যার বিচারের দাবিতে’ ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে এসব বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক।

শফিকুর রহমানের বক্তব্য

সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সংঘটিত গুম, খুন ও নির্যাতনের বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এলেও সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, হয় আপনারা বিচার নিশ্চিত করুন, না হয় আপনারা যাওয়ার রাস্তা খুঁজে বের করুন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি অভিযোগ করেন, গত চার মাসে দেশে ছয় শতাধিক মানুষ হত্যার শিকার হয়েছে এবং এসব ঘটনারও সুষ্ঠু বিচার হচ্ছে না। বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলতে থাকলে নতুন করে গণআন্দোলনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নির্যাতনের শিকার রাজনৈতিক শক্তিগুলো আজ ক্ষমতায় গিয়ে একই ধরনের আচরণের দিকে ঝুঁকছে। তিনি প্রশাসন, ব্যাংকিং খাত, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও তোলেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নাহিদ ইসলামের দাবি

সমাবেশে নাহিদ ইসলাম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রধান প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের পদত্যাগ দাবি করেন। তার অভিযোগ, সরকার গঠনের পর গত চার মাসে ট্রাইব্যুনালে নতুন কোনও রায় বা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, এটা স্পষ্ট যে চিফ প্রসিকিউটর দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। অবিলম্বে তাকে পদত্যাগ করতে হবে এবং একজন যোগ্য ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে দায়িত্ব দিতে হবে, যিনি নিয়মতান্ত্রিকভাবে আওয়ামী লীগের বিচার সম্পন্ন করবেন এবং দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেবেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে। আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

মামুনুল হকের বক্তব্য

অপরদিকে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, জুলাই বিপ্লবের মূল চেতনা ছিল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠন এবং ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধ করা। তিনি বলেন, “রক্ত দিয়ে জুলাই বিপ্লব ঘটিয়েছি, রক্ত দিয়ে ফ্যাসিবাদকে বিতাড়িত করেছি। জীবন দিয়ে হলেও বাংলার মাটিকে ফ্যাসিবাদমুক্ত রাখবো ইনশাআল্লাহ।”

তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত গুম, খুন, শাপলা চত্বরের ঘটনা, বিডিআর হত্যাকাণ্ড, মোদীবিরোধী আন্দোলনে নিহতদের ঘটনা এবং জুলাই বিপ্লবের হত্যাকাণ্ডসহ সব ঘটনার বিচার দাবি করেন।

মামুনুল হক বলেন, যদি বিএনপি এসব হত্যাকাণ্ডের যথাযথ বিচার করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে আগামীর বাংলাদেশে তাদেরও জবাবদিহি করতে হবে।

অন্যান্য বক্তব্য

সমাবেশে শরীফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের বিচার, জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাদুঘর বাস্তবায়ন এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও বক্তব্য দেন নেতারা।

১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির আহমদ আলী কাসেমী, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদসহ বিভিন্ন দলের নেতারা।