১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পুলিশ বাহিনীও পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের দোসরদের হামলার শিকার হয়। যুদ্ধের শুরুতে পুলিশ সদস্যরা নিরস্ত্র অবস্থায় আক্রমণের মুখে পড়েন। অনেক পুলিশ স্টেশন ও ব্যারাকে হামলা চালিয়ে পুলিশদের হত্যা করা হয়। পুলিশ সদস্যরা তাদের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারান। এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দুর্বল করে দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা। পুলিশ সদস্যরা দেশের স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগ করেন। তাদের এই আত্মত্যাগ জাতি কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করে।
পুলিশের ওপর নির্যাতন
মুক্তিযুদ্ধের সময় পুলিশ সদস্যদের ওপর চরম নির্যাতন চালানো হয়। পাকিস্তানি বাহিনী পুলিশ সদস্যদের ধরে নিয়ে গিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করে। অনেক পুলিশ সদস্যকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পুলিশ সদস্যরা তাদের পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। এই নির্যাতনের শিকার হন সহকারী উপ-পরিদর্শক থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
হামলার কৌশল
পাকিস্তানি বাহিনী পুলিশ স্টেশন ও ব্যারাকে হঠাৎ হামলা চালায়। তারা পুলিশ সদস্যদের অস্ত্র কেড়ে নেয় এবং তাদের বন্দী করে। অনেক পুলিশ সদস্যকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়। এই হামলার মাধ্যমে তারা পুলিশ বাহিনীকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করতে চেয়েছিল। পুলিশ সদস্যরা বীরত্বের সাথে মোকাবিলা করলেও অস্ত্রের অভাব ও প্রশিক্ষণের অভাবে তারা টিকতে পারেননি।
স্মরণ
মুক্তিযুদ্ধে পুলিশ সদস্যদের আত্মত্যাগ জাতি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে। তাদের স্মরণে বিভিন্ন স্মৃতিস্তম্ভ ও স্মারক নির্মাণ করা হয়েছে। পুলিশ সপ্তাহে তাদের অবদান বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়। পুলিশ সদস্যদের ত্যাগের মাধ্যমে দেশ স্বাধীনতা অর্জন করে।



