ফটিকছড়িতে রাবার বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে শতাধিক ফলের গাছ কাটার অভিযোগ
ফটিকছড়িতে রাবার বাগানের বিরুদ্ধে শতাধিক ফলের গাছ কাটার অভিযোগ

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির রাঙ্গামাটিয়া রাবার বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে আম, কাঁঠালসহ কয়েক শতাধিক ফলদ গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বাগান কর্তৃপক্ষ বলছে, সংশ্লিষ্ট জমি তাদের মালিকানাধীন এবং বাগানের আওতাভুক্ত হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের বক্তব্য

ভুক্তভোগী আমিনুল হক ও আহমদুল হক রোববার (৫ জুলাই) গণমাধ্যমকে বলেন, দুদিন আগে তাদের মালিকানাধীন জমিতে থাকা আম, কাঁঠালসহ বিভিন্ন ফলদ গাছ কেটে ফেলা হয়। প্রথমে কে গাছগুলো কাটছে তা বুঝতে না পারলেও পরে এ ঘটনায় তারা রাঙ্গামাটিয়া রাবার বাগান কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেন। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট জমিটি রাবার বাগান থেকে বেশ দূরে অবস্থিত এবং প্রায় ১০০ বছর ধরে তাদের পরিবার জমিটি ভোগদখল করে আসছে। সেখানে তারা কয়েক শতাধিক আম, জাম, কাঁঠাল, বাঁশসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করেছেন। কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ বা অবহিতকরণ ছাড়াই বাগান কর্তৃপক্ষ জমিটি নিজেদের দাবি করে ফলদ গাছ কেটে ফেলেছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

আমিনুল হক ও আহমদুল হক বলেন, "এ ঘটনায় আমরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং আমাদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।"

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আরেক উদ্যোক্তার অভিযোগ

একই ঘটনায় রাঙ্গামাটিয়া রাবার বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কৃষি উদ্যোক্তা ওয়াহিদ কাউসার মওলা হিরুর বাণিজ্যিক আমবাগানের কয়েকশ আমগাছ কেটে ফেলার অভিযোগও উঠেছে। হিরু বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে আমি এখানে বাণিজ্যিকভাবে একটি আমবাগান গড়ে তুলেছি। সম্প্রতি রাবার বাগান কর্তৃপক্ষ জায়গাটি তাদের দাবি করে কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই কয়েকশ আমগাছ কেটে ফেলেছে। এতে আমি উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ দাবি করছি।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাগান কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাঙ্গামাটিয়া রাবার বাগানের ব্যবস্থাপক কে এম মাহবুব আলম। তিনি বলেন, "আমরা কোনো ফলদ গাছ কাটিনি। সংশ্লিষ্ট জমিটি রাঙ্গামাটিয়া রাবার বাগানের মালিকানাধীন এবং বাগানের ৩/৮৬ নম্বর ব্লকের অন্তর্ভুক্ত। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সেখানে রাবার বাগান সৃজন করা হয়েছে। অভিযোগকারী ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে জমিটি অবৈধভাবে দখল করে আছেন। বাগানের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।"