বিমানের ফ্লাইট থেকে স্বর্ণ উদ্ধার: পরিচালনাকারীদের তালিকা চেয়েছে পুলিশ
স্বর্ণ উদ্ধার: ফ্লাইট পরিচালনাকারীদের তালিকা চেয়েছে পুলিশ

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট থেকে প্রায় ১৯ কেজি স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় ফ্লাইটটির পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের তালিকা চেয়েছে পুলিশ। একইসঙ্গে ফ্লাইট সরেজমিন পরিদর্শনের অনুমতিও চাওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সোমবার (৬ জুলাই) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া হয়েছে।

তদন্তে পুলিশের পদক্ষেপ

ওই ঘটনার দায়ের করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার পরিদর্শক (অপারেশনস) শরিফ হোসেন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, “আজ আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া হয়েছে। আমরা ওই ফ্লাইটটি সরেজমিন পরিদর্শন করতে চাই। এ জন্য আজ আমরা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও বরাবর লিখিত আবেদন করেছি।”

কাদের তালিকা চাওয়া হয়েছে

তিনি আরও বলেন, “সংশ্লিষ্ট ফ্লাইটটির পরিচালনার দায়িত্বে কারা ছিলেন, তাদের তালিকা চেয়েছি। ইঞ্জিনিয়ার সেকশন, ক্লিনার সেকশন, কেবিন ক্রু এবং পাইলট সবরাই তালিকা চাওয়া হয়েছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে সবার সঙ্গেই আমরা কথা বলবো।”

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রহস্য উদঘাটনে তৎপরতা

শরিফ হোসেন বলেন, “আলোচিত এ ঘটনার রহস্য উদঘাটনে সর্বোচ্চ তৎপরতা চালানো হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এ এয়ারলাইন্সকে ব্যবহার করে কারা স্বর্ণ চোরাচালান করছে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।” এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “যে প্রক্রিয়ায় স্বর্ণগুলো আনা হয়েছে তাতে ভেতরের লোক জড়িত রয়েছে বলে আমরা সন্দেহ করি। তবে এখনও যেহেতু বিষয়টি তদন্তের মধ্যে রয়েছে সবকিছু খোলাসা না হওয়া পর্যন্ত কারও নাম বলা উচিত হবে না।”

জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি

তিনি বলেন, “আমরা তালিকা পাওয়া মাত্রই জিজ্ঞাসাবাদের কার্যক্রম শুরু করবো। আশা করছি, দ্রুতই তারা এগুলো আমাদের কাছে সরবরাহ করবেন।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঘটনার বিবরণ

গত ২ জুলাই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট থেকে যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিমানটির কার্গো হোল্ড থেকে ১৮ কেজি ৭২০ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দরের ডিজিএফআই, এভিয়েশন সিকিউরিটি, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিরাপত্তা বিভাগ যৌথ অভিযান চালায়।

অভিযানের ফলাফল

অভিযানের প্রাথমিক তল্লাশিতে বিমান থেকে আনুমানিক ১৫ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। পরে বিস্তারিত তল্লাশিতে মোট ১৮ কেজি ৭২০ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে।

পূর্ববর্তী ঘটনার সাদৃশ্য

একই কায়দায় গত মার্চে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট থেকে প্রায় ১৮ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। পরপর দুটি ঘটনার সাদৃশ্য থেকে বোঝা যায় একই চক্র একই ফ্লাইট ব্যবহার করে বড় ধরনের স্বর্ণের চালান পাচারের চেষ্টা করছে।

তদন্তের অগ্রগতি

বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট জানায়, মার্চের ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তে অগ্রগতি রয়েছে। তবে এখনই বিষয়টি ফাঁস করতে চাই না। পরপর দুটি ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত কাদের মদদে এগুলো হচ্ছে তা নিয়ে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা।