ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিনের বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে দুর্নীতি, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, কমিশন–বাণিজ্য, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, অবৈধ পদোন্নতি, অনিয়মের মাধ্যমে তৃতীয় গ্রেডের সুবিধা গ্রহণ এবং অবৈধ সম্পদ অর্জন।
তদন্তের নির্দেশ ও সময়সীমা
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন-১ শাখা থেকে আজ রোববার এ–সংক্রান্ত চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে অভিযোগগুলো সরেজমিনে তদন্ত করে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। চিঠিটি পাঠানো হয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মু. মনিরুজ্জামানের কাছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. রবিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে তাঁকে অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।
অভিযোগের প্রকৃতি
চিঠিতে বলা হয়, কাজী মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, কমিশন–বাণিজ্য, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, অবৈধ পদোন্নতি, অনিয়মের মাধ্যমে তৃতীয় গ্রেড সুবিধা গ্রহণ এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ সরেজমিনে তদন্ত করতে বলা হয়েছে। চিঠির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র সংযুক্ত করা হয়েছে বলে উল্লেখ আছে। তবে চিঠিতে অভিযোগগুলোর বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়নি। সংযুক্ত নথির ভিত্তিতে তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগগুলো যাচাই করবেন।
তদন্তের প্রক্রিয়া ও সহযোগিতা
চিঠির অনুলিপি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। তদন্তকাজে তাঁকে সার্বিক সহযোগিতা করার অনুরোধ করা হয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগের নগর উন্নয়ন অনুবিভাগের যুগ্ম সচিব, মন্ত্রীর একান্ত সচিব, প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের একান্ত সচিব এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের একান্ত সচিবের কাছেও অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।
প্রভাব ও সম্ভাব্য ব্যবস্থা
ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রকৌশল বিভাগ নগরীর সড়ক, নর্দমা, অবকাঠামো নির্মাণ ও সংস্কারসহ বড় অঙ্কের উন্নয়নকাজের সঙ্গে যুক্ত। এই বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, কমিশন–বাণিজ্য, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের মতো অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তবে চিঠিতে কোনো সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়নি; অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



