সংসদ ভবনের সাউন্ড সিস্টেমে দুর্নীতির অভিযোগ: দুদকের অনুসন্ধান শুরু
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জাতীয় সংসদ ভবনের প্লেনারি হলে সাউন্ড সিস্টেম পরিচালনা, মেরামত, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের নামে অর্থ আত্মসাৎ এবং বিদেশে পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পূর্ববর্তী কমিশনের অনুমোদনে এই অনুসন্ধান কার্যক্রম চালু হয়েছে এবং সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক প্রবীর কুমার দাস বিষয়টি তদন্ত করছেন।
অভিযোগের পটভূমি ও তদন্তের বিবরণ
দুদকের নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধান শুরু হয়। অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন দুদকের সহকারী পরিচালক প্রবীর কুমার দাস। জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গণপূর্ত বিভাগের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী আস্রাফুল হকের তত্ত্বাবধানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেড সংসদ ভবনের সাউন্ড সিস্টেম স্থাপনের কাজ সম্পন্ন করে। তবে পরে সংসদ অধিবেশন চলাকালে একাধিকবার এই সিস্টেমে বিভ্রাট দেখা দেয়, যা সংসদে অসন্তোষের জন্ম দেয়।
দুদকের অভিযোগ অনুসারে, জাহিদুর রহিম জোয়ারদার, তার প্রতিষ্ঠান এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের কিছু প্রকৌশলীর যোগসাজশে সংসদ ভবনের এসআইএস (সাউন্ড সিস্টেম) পরিচালনা ও মেরামতের নামে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এছাড়া, আমদানির ক্ষেত্রে কাগজে-কলমে বেশি মূল্য দেখিয়ে (ওভার ইনভয়েসিং) বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও তোলা হয়েছে।
অর্থের অপচয় ও মেরামতের প্রাক্কলন
দুদকের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সংসদ ভবনে বিক্ষোভের সময় অধিবেশনকক্ষের এসআইএস ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে এটি সচল করতে গণপূর্ত অধিদপ্তর উদ্যোগ নেয়। কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেড ক্ষতিগ্রস্ত সিস্টেম মেরামতের মাধ্যমে সচল করা সম্ভব বলে মত দেয় এবং ব্যয়ের প্রাক্কলন জমা দেয়। এছাড়া, মেরামত কাজে প্রকৌশলীদের যাতায়াত, থাকা-খাওয়া ও সম্মানী বাবদ ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা চাওয়ার বিষয়টিও নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
দুদক আরও জানায়, এসআইএস মেরামত, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ ৯ কোটি টাকার প্রাক্কলন প্রস্তুত করা হয়েছে। সম্প্রতি সংসদ অধিবেশনে সাউন্ড সিস্টেমের একাধিক ত্রুটির ঘটনা ঘটে, যা নিয়ে সংসদেও অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। এ ঘটনায় পৃথকভাবে তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে, যা দুদকের অনুসন্ধানের পাশাপাশি চলছে।
এই অনুসন্ধানটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি রোধ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুদকের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।



