চকরিয়ায় ঘুস না পেয়ে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে মারধরের অভিযোগ এসআই ফারুকের বিরুদ্ধে
ঘুস না পেয়ে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে মারধরের অভিযোগ

চকরিয়ায় পুলিশের ঘুস দাবিতে অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ চারজনের মারধরের অভিযোগ

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় পুলিশের চাহিদা মতো ঘুস না দেওয়ায় অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ কমপক্ষে চারজনকে মারধরের ঘটনায় মাতামুহুরি তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী মোহাম্মদ রফিক (৪৫) বুধবার (৮ এপ্রিল) কক্সবাজারের পুলিশ সুপার বরাবর লিখিতভাবে প্রতিকার ও বিচার চেয়েছেন।

জমি বিরোধের পটভূমি

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চকরিয়ার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের মধ্যম চর পাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ রফিকের সঙ্গে স্থানীয় আবু তাহের গংদের বসতভিটার জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিষয়ে একটি মামলা চকরিয়া সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। গত ৩ এপ্রিল প্রতিপক্ষ জমি দখলের চেষ্টা করলে রফিক পুলিশের জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দেন।

এ সময় এসআই ফারুক হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন এবং রফিকের কাছ থেকে খরচের কথা বলে ৩ হাজার টাকা নেন। বাদীর দাবি, বিষয়টি মিমাংসা করে দেওয়ার কথা বলে এসআই ফারুক পরবর্তীতে ১ লাখ টাকা দাবি করেন। রফিক টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে ওই কর্মকর্তা ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিপক্ষের পক্ষ নেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মারধরের ঘটনা

গত ৭ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে এসআই ফারুকের উপস্থিতিতে প্রতিপক্ষ জমি দখলের চেষ্টা করলে রফিকের পরিবার বাধা দেয়। এ সময় এসআই ফারুক নিজেই রফিকের ছোট ভাইয়ের বউ, ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা শিফা জন্নাতকে পেটে লাথি মেরে গুরুতর আহত করেন। এছাড়াও রফিকের স্ত্রী পিংকি আক্তার ও ছোট বোন শারমিন আকতারকে পিটিয়ে আহত করা হয়। আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।

শিফা জন্নাত বলেন, "আমার ভাসুর রফিককে ধরে নিয়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে, এসআই ফারুক আমার তলপেটে সজোরে লাথি দিলে আমি মাটিতে পড়ে যাই।" তিনি নিজের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থার কথাও উল্লেখ করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর আদায়

রফিক জানান, ঘটনার পর তাকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে মাতামুহুরী তদন্ত কেন্দ্রের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে কাঠের লাঠি দিয়ে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কাছ থেকে ১০০ টাকার তিনটি খালি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর আদায় করে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

অভিযুক্তের বক্তব্য

অভিযুক্ত এসআই ফারুক হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি ঘুস চাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, "মোহাম্মদ রফিক আদালতে মামলা করলেও, বিরোধীয় জায়গায় প্রতিপক্ষকে কাজ না করার বিষয়ে আদালতের কোনো আদেশ দেখাতে পারেনি। তাই অন্যপক্ষকে বাড়ি নির্মাণ কাজ চালিয়ে যেতে বলি। ঝামেলা এড়াতে রফিককে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়েছিল। রাগের মাথায় লাঠি দিয়ে একটি বাড়ি দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।"

পুলিশ কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া

মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ হিমেল হাসান বলেন, ঘটনাটি শুনেছেন তবে, ওই সময় তিনি অফিসে ছিলেন না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এএনএম সাজিদুর রহমান বলেন, "যা বলেছে ঠিক না বেঠিক জানি না। তবে, যে কথা বলেছে তা খুবই খারাপ কথা বলেছে। আমি ওসিকে নির্দেশ দিচ্ছি, সত্যতা নিশ্চিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে তোলপাড় শুরু হয়েছে এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে জনসাধারণের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের দিকে এখন সকলের নজর রয়েছে।