প্রথম আলো সম্পাদক ও দুই প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে ৫০ কোটি টাকার মানহানি মামলা
প্রথম আলো সম্পাদক ও দুই প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে ৫০ কোটি টাকার মানহানি মামলা

হবিগঞ্জের আদালতে প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান ও পত্রিকার দুই প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে ৫০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ চেয়ে মানহানির মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত বুধবার পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট (পাশা) নামে স্থানীয় একটি এনজিওর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ হুমায়ুন কবীর বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

আদালতের নির্দেশ

শুনানি শেষে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তানজিনা রহমান জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তদন্ত করে ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেন। মামলার অন্য দুই আসামি হলেন প্রথম আলোর হবিগঞ্জের নিজস্ব প্রতিবেদক হাফিজুর রহমান ও ঢাকা কার্যালয়ের নিজস্ব প্রতিবেদক রিয়াদুল করিম।

বাদীপক্ষের বক্তব্য

এ বিষয়ে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পাশার আইনজীবী শ‌হিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে ব‌লেন, ‘সংবাদ প‌রি‌বেশ‌নের কার‌ণে পাশা ও পাশার নির্বাহী প‌রিচালকের ৫০ কো‌টি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এর প্রতিকার চে‌য়ে আমরা মামলা দা‌য়ের ক‌রে‌ছি। আদালত মামলা‌টি ডি‌বি পু‌লিশ‌কে তদ‌ন্তের দা‌য়িত্ব দি‌য়ে‌ছেন।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলার আরজি

মামলার আরজিতে বাদী উল্লেখ করেন, হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার বরমপুরে অবস্থিত পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট (পাশা) সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিবন্ধন নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তারা ফেয়ার ইলেকশন মনিটরিং অ্যালায়েন্স (ফেমা) ও এনজিও ‘ব্রতী’র সহযোগী হিসেবে জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে পর্যবেক্ষক হিসেবে কাজ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষণের জন্য আবেদন করলে নির্বাচন কমিশন পাশাকে ১ হাজার ৫৫৯ জন পর্যবেক্ষক নিয়োগের অনুমোদন দেয়। তাঁরা কার্যক্রম শুরু করলে প্রথম আলোতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি ‘এক ব্যক্তিনির্ভর পাশা দিচ্ছে ১০ হাজার নির্বাচন পর্যবেক্ষক’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রতিবেদনের বরাত

প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার বরমপুর গ্রামে অবস্থিত পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট (পাশা) একটি নামসর্বস্ব এনজিও। এর নিজস্ব কোনো প্রকল্প নেই। এর নির্বাহী পরিচালক নিজেই সর্বেসর্বা। তাঁর কোনো কর্মী নেই। প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী তাঁর বাসাকে অফিস দেখিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, অতীতে একসময় হবিগঞ্জ শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে অফিস করেছিল পাশা। এ সময় নারীদের চাকরি দেওয়ার নামে নানা অভিযোগ উঠলে এলাকাবাসীর প্রতিবাদে অবস্থান ছাড়ে পাশা। পাশাপাশি বলা হয়, পাশা অতি অল্প টাকায় পর্যবেক্ষণ কার্ড বিক্রি করেছিল।

ক্ষতির দাবি

প্রথম আলোতে এই প্রতিবেদন প্রকাশের কারণে প্রতিষ্ঠানটির (পাশার) দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনাম নষ্ট হয়। এই মিথ্যা সংবাদ পরিবেশনের ফলে নির্বাচন কমিশন পাশার সাকল্য নিয়োগ বাতিল করে। এতে সংস্থার ৭ কোটি ৩৯ লাখ ১৩ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি হয় এবং বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও দেশ-বিদেশে থাকা বিভিন্ন সংস্থার কাছে প্রতিষ্ঠানের আনুমানিক ৫০ কোটি টাকার সুনাম নষ্ট হয়েছে।

সম্পাদকীয় প্রসঙ্গ

মামলার আরজিতে আরও বলা হয়েছে, এ ছাড়া প্রথম আলোতে গত ৭ ফেব্রুয়ারি ‘নামসর্বস্ব নির্বাচন পর্যবেক্ষণ: এটি নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে’ শিরোনামে সম্পাদকীয় প্রকাশ করা হয়। এতে বিভিন্ন শুভানুধ্যায়ীদের কাছে পাশা মারাত্মক প্রশ্নবিদ্ধ হয়।