শাহজালাল বিমানবন্দরে ডিউটি বাণিজ্য: সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন
শাহজালালে ডিউটি বাণিজ্য: সিন্ডিকেটের তদন্ত প্রতিবেদন

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ডিউটি রোস্টার নিয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। গোয়েন্দা সংস্থার বিশেষ তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ডিউটি দেওয়ার বিনিময়ে কার্গো হেলপারদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করছেন।

রোস্টার বাণিজ্যের চিত্র

তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমদানি কার্গো সেকশনে কাজ পাওয়ার জন্য হেলপারদের মাথাপিছু মাসে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা কর্মকর্তাদের দিতে হয়। এর বিনিময়ে রোস্টারে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই 'রোস্টার বাণিজ্য' থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মাসে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা অবৈধভাবে আয় করেন।

চুরি ও জালিয়াতি

টাকা দিয়ে ডিউটি পাওয়ার ফলে অসাধু হেলপাররা আমদানি পণ্য চুরি এবং কাগজ জালিয়াতির মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। সিন্ডিকেটের সহায়তায় আমদানিকৃত পণ্য ও শুল্ক ফাঁকির ঘটনা ঘটছে নিয়মিত। সম্প্রতি জালিয়াতির মাধ্যমে চীন থেকে আসা ৪ হাজার ২৩৭ কেজি ফেব্রিকস কোনও শুল্কায়ন ছাড়াই খালাস করা হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অভিযুক্তদের তালিকা

তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্ত হিসেবে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন: মঈনউদ্দীন লোটাস (কমার্শিয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার, কার্গো), ইকবাল বিন আবেদ ও এবাদত ইসলাম (অ্যাসিস্ট্যান্ট কমার্শিয়াল ম্যানেজার), জাহিদুজ্জামান (কমার্শিয়াল ম্যানেজার, কার্গো), আনোয়ার (জিনিয়র কমার্শিয়াল অফিসার), মো. মন্তাসার রহমান, কেএম শাহজালাল, মিজানুর রহমান, এস এম জোবায়েদ, মোস্তফা কামাল, জুবাইল ইসলাম, তাহমিদুল ইসলাম (কমার্শিয়াল সুপারভাইজার)। এছাড়া কার্গো হেলপার শাওন আহমেদ রাজু, শাহাদাত হোসেন ও সুজন এই চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অটোমেশন বন্ধের ষড়যন্ত্র

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স রোস্টার ব্যবস্থাপনায় 'অটোমেশন সিস্টেম' চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে অসাধু চক্রটি বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে অটোমেশন প্রক্রিয়া বন্ধের চেষ্টা করছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, অটোমেশন চালু হলে রোস্টার বাণিজ্য বন্ধ হবে।

সুপারিশ

তদন্ত প্রতিবেদনে অনিয়মে জড়িতদের অন্যত্র বদলি করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দ্রুত অটোমেশন সিস্টেম চালুর সুপারিশ করা হয়েছে। বিমান কর্তৃপক্ষকে দক্ষ জনবল তৈরিতে প্রশিক্ষণ বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে মঈনউদ্দীন লোটাস বলেন, 'আমি কোনও অবৈধ কাজের সঙ্গে জড়িত নই, এই অভিযোগ মিথ্যা।' অপরদিকে কমার্শিয়াল সুপারভাইজার মো. মন্তাসার রহমান দাবি করেন, তারা অটোমেশন চালুর পক্ষে এবং সততার সঙ্গেই দায়িত্ব পালন করছেন। বিমানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গোয়েন্দা প্রতিবেদনটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।