জাতীয় সরকার প্রতিশ্রুতি পূরণে বিএনপির ব্যর্থতা, শরিকদের মধ্যে হতাশা
জাতীয় সরকার প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ বিএনপি, শরিকদের হতাশা

বিএনপির দলীয় পতাকানির্বাচনে জয়ী হলে যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের নিয়ে ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিএনপি। তবে ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠন করলেও সেই প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন খুব সীমিত। সরকারে জায়গা পেয়েছেন মাত্র তিনটি শরিক দলের তিনজন নেতা। এতে শরিকদের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাঁরা বলছেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে এটা তো বিএনপি সরকার।

তখন ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ সরকার। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে। ২০২২ সালে ২৮ মার্চ, লন্ডনে সেখানে স্বাধীনতা দিবসের এক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি প্রথম ঘোষণা দেন, সরকারবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত দলগুলোকে নিয়ে একসঙ্গে আন্দোলন, একসঙ্গে নির্বাচন করবেন। নির্বাচনে জয়ী অথবা পরাজিত সবাইকে নিয়ে জাতীয় সরকার গঠন করবে বিএনপি। এরপর ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগপর্যন্ত বিএনপির নেতারা জাতীয় সরকারের কথা প্রায়ই বলতেন।

শরিক দলগুলো থেকে জোনায়েদ সাকি ও নুরুল হক নুর স্থান পেয়েছেন বিএনপির সরকারে। ফাইল ছবি: প্রথম আলো

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নির্বাচনের ঠিক আগে, ৪ জানুয়ারি, সিলেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বিষয়টির উল্লেখ করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘বিএনপি জনমতের ওপর বিশ্বাসী। নির্বাচনে জয়লাভ করলে আমরা একা সরকার গঠন করব না; বরং যারা দীর্ঘ সময় আমাদের সঙ্গে রাজপথে যুগপৎ আন্দোলন করেছে, তাদের নিয়েই একটি জাতীয় সরকার গঠন করা হবে। তবে এটি কোনো সর্বদলীয় সরকার হবে না।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নির্বাচনে জোট শরিক দলগুলোকে আটটি আসন ছেড়েছিল বিএনপি। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশকে (খেজুরগাছ) চারটি এবং গণসংহতি আন্দোলন (মাথাল), বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি (কোদাল), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি (গরুর গাড়ি) ও গণ অধিকার পরিষদকে (ট্রাক) একটি করে আসন ছেড়ে দেওয়া হয়। এর মধ্যে জয়ী হন মাত্র তিনজন। তাঁরা হলেন গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, বিজেপির আন্দালিভ রহমান পার্থ ও গণ অধিকার পরিষদের মো. নুরুল হক নুর।

জাতীয় সংসদের ৩০০টি আসনের মধ্যে বিএনপি যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলের নেতাদের ১৫টি আসন ছেড়ে দিয়েছিল। এর মধ্যে মিত্র পাঁচটি দলকে ছাড়া হয়েছিল আটটি আসন, যারা তাদের দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে। মিত্র পাঁচটি দলের মধ্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশকে (খেজুরগাছ) চারটি এবং গণসংহতি আন্দোলন (মাথাল), বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি (কোদাল), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি (গরুর গাড়ি) ও গণ অধিকার পরিষদকে (ট্রাক) একটি করে আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে জয়ী হন মাত্র তিনজন। তাঁরা হলেন গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, বিজেপির আন্দালিভ রহমান পার্থ ও গণ অধিকার পরিষদের মো. নুরুল হক নূর।

এ ছাড়া আরও পাঁচটি শরিক দলের প্রধানসহ সাতজন নেতা নিজস্ব দল ভেঙে দিয়ে কিংবা বিএনপিতে যোগ দিয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হন। তাঁরা নিয়েছিলেন ধানের শীষ প্রতীক। তাঁরা হলেন বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ, গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের (একাংশ) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব মুফতি রশীদ বিন ওয়াক্কাস। এর মধ্যে কেবল শাহাদাত হোসেন সেলিম ও ববি হাজ্জাজ জয়ী হন।

নির্বাচনী ফলাফল দেখা যায়, শরিকদের ছেড়ে দেওয়া আসনে বিএনপি কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি। শরিক দলগুলোকে ছেড়ে দেওয়া ১৫টি আসনের মধ্যে মাত্র পাঁচটি আসনে জয় আসে। এই পাঁচ বিজয়ীর মধ্যে সরকারে ঠাঁই পান তিনজন। এর মধ্যে জোনায়েদ সাকি পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী, নুরুল হক প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ও ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। বাদ থাকেন শাহাদাত হোসেন সেলিম ও আন্দালিভ রহমান পার্থ।

কথায় আছে না, কোকাকোলা ভোটের আগে ফস করে, ভোটের পরে করে না।

মাহমুদুর রহমান মান্না, সভাপতি, নাগরিক ঐক্য

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বাদ পড়া দুজনেই বিএনপির সঙ্গে বহু বছর ধরে আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন। এর মধ্যে শাহাদাত হোসেন সেলিম বিগত যুগপৎ আন্দোলন ছাড়াও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংস্কারের আলোচনায় বিএনপির পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকারের যাত্রা শুরু হয় ১৭ ফেব্রুয়ারি। ৫ জুন সরকারের ১০৯ দিন অতিবাহিত হয়। নির্বাচনের আগের প্রতিশ্রুত ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের বিষয়ে কথা হয় যুগপৎ আন্দোলনের একাধিক শরিক নেতার সঙ্গে।

‘কোকাকোলা ভোটের আগে ফস করে’

যুগপৎ আন্দোলনে বিএনপির অন্যতম শরিক জোটের একটি হচ্ছে গণতন্ত্র মঞ্চ। সে জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না, তাঁর দল নাগরিক ঐক্য। বিএনপি তাঁকে প্রার্থী করেনি। এ নিয়ে নির্বাচনের আগমুহূর্তে কিছুটা তিক্ততাও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু পরে কোনো পক্ষই বিষয়টি নিয়ে আগ বাড়ায়নি। এখনো বিএনপির সঙ্গে মাহমুদুর রহমান মান্নার সম্পর্ক অনেকটা সে অবস্থাতেই রয়ে গেছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। ফাইল ছবি

আন্দোলনের সময় বিএনপির ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে মাহমুদুর রহমান মান্না শ্লেষ প্রকাশ করেই প্রথম আলোকে বলেন, ‘কথায় আছে না, কোকাকোলা ভোটের আগে ফস করে, ভোটের পরে করে না।’

ভোটের পরে বিএনপি যে জাতীয় সরকারের ধারণা থেকে সরে গেছে, সেটির উল্লেখ করে মান্না বলেন, ‘বিএনপি যা বলেছিল, সেটা তারা করেনি। বলতে পারেন, দুজনকে (মন্ত্রী) তো করা হয়েছে। কিন্তু এটা যে জোটের সরকার, সেটা তো বিএনপিও বলছে না। আমি বলব, যেটা হয়েছে সেটা বিএনপি সরকার। আর অন্য দল থেকে যে এক-দুজনকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে, এটা আমাদের দেশে একটা সিস্টেম হয়ে গেছে।’

‘রেইনবো সরকার না হলে রেইনবো নেশন কীভাবে হবে’

নির্বাচনে ঢাকা-১২ আসনে বিএনপির সমর্থন পেয়েছিলেন গণতন্ত্র মঞ্চের আরেক শীর্ষ নেতা ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি দলের ‘কোদাল’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামায়াতের প্রার্থীর কাছে বড় ব্যবধানে হেরে এখন কিছুটা নিষ্প্রভ।

বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। ফাইল ছবি

শরিক পাঁচটি শরিক দলের প্রধানসহ সাতজন নেতা বিএনপিতে যোগ দিয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হন। তাঁরা হলেন বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ, গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের (একাংশ) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব মুফতি রশীদ বিন ওয়াক্কাস। এর মধ্যে কেবল শাহাদাত হোসেন সেলিম ও ববি হাজ্জাজ জয়ী হন।

বিএনপির জাতীয় সরকারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে সাইফুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিএনপির নেতারাই তো জাতীয় সরকারের কথা বলে আসছিলেন ২০২২ সাল থেকে। শরিক দলের কেউ কিন্তু বলেনি। বিএনপিই তার নির্বাচনী অঙ্গীকারে ‘রেইনবো নেশন’ গঠনের কথা বলেছে। রেইনবো সরকার না হলে রেইনবো নেশন কীভাবে হবে? এখন তো জাতীয় সরকারের কোনো আলোচনাই নেই। কেউ কেউ মনে করতে পারে, সরকারে দুই শরিক দল তো আছে। কিন্তু এর কি কোনো বহিঃপ্রকাশ আছে?’

বিএনপিই তার নির্বাচনী অঙ্গীকারে ‘রেইনবো নেশন’ গঠনের কথা বলেছে। রেইনবো সরকার না হলে রেইনবো নেশন কীভাবে হবে? এখন তো জাতীয় সরকারের কোনো আলোচনাই নেই।

সাইফুল হক, সাধারণ সম্পাদক, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি

‘আস্থা রাখছি, প্রধানমন্ত্রী আমাদের কাজে লাগাবেন’

গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নিজের দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করে জয়ী হন। কিন্তু তাঁর দলের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রাশেদ খান বিএনপিতে যোগ দিয়ে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ঝিনাইদহ-৪ আসনে নির্বাচন করেন। তিনি ৫৬ হাজার ২২৪ ভোট পেয়ে তাঁর আসনে তৃতীয় স্থানে ছিলেন। সেখানে জামায়াতের আবু তালিব ১ লাখ ৫৯ হাজার ৯৯ ভোট পেয়ে ১ লাখ ২ হাজার ৮৭৫ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। বিএনপির বিদ্রোহী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ ৭৭ হাজার ১০৪ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন।

রাশেদ খান প্রথম আলোকে জানান, ৩ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছে এবং দীর্ঘ সময় বিভিন্ন বিষয়ে তাঁদের কথা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি আস্থা রাখছি, আমরা যারা বিএনপিতে যোগ দিয়েছি, প্রধানমন্ত্রী তাদের যথাযথভাবে কাজে লাগাবেন।’

নির্বাচনের আগে গত ডিসেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন মুহাম্মদ রাশেদ খান। ফাইল ছবি

জাতীয় সরকারের আশা এখনো ছাড়ছেন না রাশেদ খান। তিনি বলেন, ‘জাতীয় সরকার গঠন করাসহ রাষ্ট্রকাঠামোর ৩১ দফা সংস্কারের যে প্রতিশ্রুতি বিএনপির ছিল, সেটি প্রধানমন্ত্রী ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করবেন বলে আমার মনে হয়েছে।’

বিএনপির শরিকদের মধ্য থেকে পাঁচ বিজয়ীর মধ্যে সরকারে ঠাঁই পান তিনজন। এর মধ্যে জোনায়েদ সাকি পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী, নুরুল হক প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ও ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। বাদ রয়েছেন শাহাদাত হোসেন সেলিম ও আন্দালিভ রহমান পার্থ।

‘বিএনপি ভুগবে’

গত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ধর্মভিত্তিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে চারটি আসন ছাড় দিয়েছিল। শরিক দলগুলোর মধ্যে তাদেরই সবচেয়ে বেশি আসন ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে দলটির সভাপতি-মহাসচিবসহ কোনো প্রার্থীই জয়ী হননি। এসব আসনে বিএনপি প্রার্থী দেয়নি। নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, এই চার আসনের একটি গেছে খেলাফত মজলিসের দখলে, একটি বিএনপির বিদ্রোহীর দখলে, একটি জামায়াতে ইসলামীর দখলে এবং একটি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দখলে।

জমিয়তের সভাপতি উবায়দুল্লাহ ফারুক সিলেট-৫ আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আবুল হাসানের কাছে হেরে যান। উবায়দুল্লাহ ফারুক ৬৯ হাজার ৭৭৪ ভোট পান। আর বিজয়ী আবুল হাসান পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৩৫৫ ভোট। সেখানে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ছিল।

আমি আস্থা রাখছি, আমরা যারা বিএনপিতে যোগ দিয়েছি, প্রধানমন্ত্রী তাদের যথাযথভাবে কাজে লাগাবেন।

রাশেদ খান, বিএনপিতে যোগ দেওয়া গণ অধিকার পরিষদের সাবেক নেতা

ভোটের পর এ নিয়ে জমিয়তের নেতাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। ৪ জুন নির্বাচনী এলাকা সিলেটের কানাইঘাটে দলীয় এক অনুষ্ঠানে জমিয়তের সভাপতি উবায়দুল্লাহ ফারুকের বক্তব্যে এর প্রকাশ ঘটে। দীর্ঘ বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপি আমার সঙ্গে যে আচরণ করছে, এর ভোগান্তি বিএনপি ভুগবে।’

উবায়দুল্লাহ ফারুক দাবি করেন, জমিয়তের কারণে জামায়াতে ইসলামীর ‘কোমর ভেঙে পড়েছে’ বা ক্ষমতায় যাওয়া ঠেকানো গেছে। এই ভূমিকার মধ্য দিয়ে তিনি দেশ বাঁচিয়েছেন, কওমি মাদ্রাসা বাঁচিয়েছেন এবং আজাদির সঙ্গে বিচরণ করার পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন।

উবায়দুল্লাহ ফারুকের ওই বক্তব্যের কিছু অংশ ইতিমধ্যে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে এর পক্ষে–বিপক্ষে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন।

সব মিলিয়ে নির্বাচনের আগে দেওয়া ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের প্রতিশ্রুতি ও নির্বাচনের পর বাস্তব চিত্রের মধ্যে একটি স্পষ্ট ফারাক দেখা যাচ্ছে। এতে শরিক দলগুলোর অংশগ্রহণ, জোট রাজনীতির ভবিষ্যৎ এবং বিএনপির রাজনৈতিক কৌশল—সবকিছু নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

শরিক দলের নেতাদের বড় একটি অংশ মনে করছে, নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে বিজয় বিএনপিকে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের জায়গায় ঠেলে দিচ্ছে। যে কারণে দুঃসময়ের রাজনৈতিক মিত্রদের সঙ্গে বিএনপির কোনো যোগাযোগ-সম্পর্ক নেই। এটা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

শরিকরা হতাশ হলেও জাতীয় সরকার নিয়ে প্রতিশ্রুতিও পূরণের আশা দিচ্ছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

চিকিৎসার জন্য চীনে অবস্থানরত রুহুল কবির রিজভী আজ সোমবার মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘নিশ্চয়ই বিএনপির নির্বাচন প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জাতীয় সরকারের বিষয়ে যে প্রতিশ্রুতি ছিল, তাও পূরণ করবে। এর আলামত দেখা যাচ্ছে, কারণ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। এটাও নিশ্চয়ই করবেন।’

প্রথম আলোর খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

বিশেষ সংবাদ

নাগরিক ঐক্য

বিএনপি

বিজেপি

ওয়ার্কার্স পার্টি

গণ অধিকার পরিষদ