ঢাকার একটি আদালত সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ১১ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু করেছে। বুধবার (২৩ এপ্রিল) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক ও মামলার বাদী হাফিজুল ইসলাম ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আবদুল্লাহ আল মামুনের আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন।
সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ
হাফিজুল ইসলামের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত আগামী ২০ মে পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন নির্ধারণ করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী সোহানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার পটভূমি
এর আগে গত ৩ মে একই আদালত বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। গত ৮ মার্চ আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। তদন্ত শেষে গত বছরের ৩০ নভেম্বর হাফিজুল ইসলাম বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন, যেখানে তাকে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়।
অভিযোগপত্রের বিবরণ
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদ তার সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকার স্থাবর এবং ৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ ঘোষণা করেন। তবে তদন্তকারীরা তার নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদের প্রমাণ পান, যার মোট মূল্য ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।
তদন্তকারীরা বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে ৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকা চিহ্নিত করেন, যার মধ্যে ব্যয় বাদে নিট সঞ্চয় দাঁড়ায় ৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। ফলে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ হিসেবে ১১ কোটি ৪ লাখ টাকা চিহ্নিত করা হয়, বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, বেনজীর আহমেদ বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং যৌথ স্টক কোম্পানির মাধ্যমে অর্থ বিনিয়োগ, স্থানান্তর এবং রূপান্তর করে অবৈধ উৎস, প্রকৃতি এবং মালিকানা গোপন করার চেষ্টা করেন।



