দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি নতুন কৌশল নির্ধারণ করেছে। কমিশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ আজ এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, 'দুর্নীতি নির্মূলে আমরা প্রযুক্তির ব্যবহার ও জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর জোর দেব।'
প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি
নতুন কৌশলের আওতায় দুদক প্রযুক্তির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে। এর মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অভিযোগ গ্রহণ, অনলাইন তদন্ত ব্যবস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার। কমিশনার ড. মো. শামসুল আলম বলেন, 'প্রযুক্তি আমাদের তদন্ত প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করবে। আমরা ইতিমধ্যে একটি পাইলট প্রকল্প শুরু করেছি।'
জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ
দুদক জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে সচেতনতা বৃদ্ধি কর্মসূচি, হটলাইন চালু এবং স্থানীয় পর্যায়ে দুর্নীতি বিরোধী কমিটি গঠন। চেয়ারম্যান বলেন, 'জনগণ যদি সচেতন হয় এবং সাহস করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, তাহলে আমরা দ্রুত সফল হতে পারব।'
বিগত বছরের অগ্রগতি
সংবাদ সম্মেলনে বিগত এক বছরের কার্যক্রমের একটি প্রতিবেদনও প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা যায়, ২০২৩ সালে দুদক মোট ১,২৫০টি মামলা দায়ের করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৫% বেশি। এছাড়া ২৫০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
কমিশনার ড. শামসুল আলম স্বীকার করেন, দুর্নীতি দমনে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যেমন রাজনৈতিক চাপ ও আইনি জটিলতা। তবে তিনি আশাবাদী, নতুন কৌশল বাস্তবায়িত হলে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। ভবিষ্যতে দুদক আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াবে বলেও জানান তিনি।



