ফেসবুকে পরিচয় হওয়া এক বান্ধবীর সঙ্গে দেখা করতে এবং উপহার দিতে ঢাকায় এসে মারা গেছেন সৌদি প্রবাসী মো. আল আমিন (৪০)। শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে রাজধানীর গুলিস্তানের আবাসিক হোটেল রমনায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আল আমিন গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বাহাদুর রাস্তা এলাকার মৃত ফেরদৌস উদ্দীনের ছেলে। হোটেলে থাকা ওই বান্ধবী জানিয়েছেন, প্রায় ছয় মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাদের পরিচয় হয়। এরপর তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং প্রায়ই কথা হতো।
তিনি জানান, গত ১৩ জুন আল আমিন সৌদি আরব থেকে দেশে আসেন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) তাদের মধ্যে কথা হয়। পরে দেখা করতে খুলনার বাগেরহাট থেকে শুক্রবার সকালে গুলিস্তানে আসেন আল আমিন।
বান্ধবীর ভাষ্য, আল আমিন বাসায় জানিয়েছিলেন, এক বন্ধুর কিছু উপহার দিতে তিনি ঢাকায় যাচ্ছেন। পরে গুলিস্তানে তাদের দেখা হয়। এরপর তারা হোটেল রমনার নবম তলার একটি কক্ষে ওঠেন এবং সেখানে কথাবার্তা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আল আমিন ওয়াশরুমে যান। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ একটি ভারী শব্দ শুনতে পাই। ভেতরে গিয়ে দেখি, ওয়াশরুমের দরজা খোলা অবস্থায় আল আমিন মেঝেতে পড়ে আছেন।’ পরে তার চিৎকারে হোটেলের বয় হানিফসহ অন্যরা এগিয়ে আসেন।
সেখান থেকে আল আমিনকে উদ্ধার করে দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি পল্টন থানাকে জানানো হয়েছে।
হাসপাতালে নিহতের ছোট ভাই রুহুল আমিন জানান, তার বড় ভাই আল আমিন চলতি মাসের ১৩ তারিখে দেশে আসেন। সৌদি আরব থেকে কিছু মালামাল কাউকে দিতে ঢাকায় এসেছিলেন। পরে তারা খবর পান, হোটেল রমনার ওয়াশরুমে পড়ে তিনি মারা গেছেন। ঢাকা মেডিক্যালে এসে তারা মরদেহ শনাক্ত করেন।
পল্টন থানার ওসি মোস্তাফা মামুন বলেন, ‘সম্ভবত ওই প্রবাসী স্ট্রোক করে মারা গেছেন। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।’ তিনি জানান, নিহতের স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরা এসেছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে।



