ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সরকারের সদিচ্ছা দেখা যাচ্ছে না। নির্বাচনের আগে জাতির সঙ্গে করা অঙ্গীকার বর্তমান সরকারের কার্যক্রমে প্রতিফলিত হচ্ছে না। সরকারের ভালো কাজে সহযোগিতা করলেও গতানুগতিক ধারায় দেশ পরিচালনা করলে ইসলামী আন্দোলন আবার রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।
সরকারের প্রতি আহ্বান ও হুঁশিয়ারি
শনিবার বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনের একটি হোটেলে দলের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার অধিবেশনে এ কথা বলেন ইসলামী আন্দোলনের আমির। তিনি বলেন, বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার আগে দলটির প্রধান জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের কথা বলেছিলেন। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর সনদ বাস্তবায়নে সরকারের সদিচ্ছা দেখা যাচ্ছে না। ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানে মানুষ যে আশা ও লক্ষ্য নিয়ে জীবন দিয়েছিল, বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে সেটি ভুলে গেছে কি না, সেই প্রশ্ন রাখেন তিনি।
এ সময় জাতির সঙ্গে করা অঙ্গীকার অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করতে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান ইসলামী আন্দোলনের আমির।
ইসলামের নামে ক্ষমতাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে বিরোধী দল
অধিবেশনে সৈয়দ রেজাউল করীম বলেন, শরিয়াহ বা ইসলামি নীতি–আদর্শ ছাড়া দুনিয়ায় শান্তি আসতে পারে না। ৫ আগস্টের পরে ইসলামী আন্দোলন ইসলামের পক্ষে একটি সমঝোতা তৈরি করেছিল। কিন্তু কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ইসলামের নাম করে লোভে পড়ে ক্ষমতাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। এখন তারা বিরোধী দলে রয়েছে।
বিরোধী দলের উদ্দেশে সমালোচনা
বিরোধী দলের উদ্দেশে সৈয়দ রেজাউল করীম বলেন, ‘বিভিন্ন সময় ইসলামের কথা বলেন দেখে বলছি, আপনারা সংসদে যাওয়ার পরে ইসলামের পক্ষে তো কোনো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা আপনাদের বক্তব্যের মাধ্যমে আমরা পাইনি।’
চরমোনাই পীর আরও বলেন, ইসলামের কল্যাণের জন্য বাংলাদেশের জনগণ বিরোধী দলকে ভোট দিয়েছে। ইসলাম, দেশ, মানবতার পক্ষে কথা বলার জন্য তাদের সংসদে পাঠিয়েছে। জনগণের টাকা খরচ করে সংসদে বসে ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেন, পর্দা চাওয়ার জন্য পাঠানো হয়নি।
ভারতের সমালোচনা
প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ না করে প্রশ্নবিদ্ধ আচরণ করছে উল্লেখ করে ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, মানুষকে কষ্ট দিয়ে, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ভারত বাংলাদেশে পুশ ইন (ঠেলে পাঠানো) করছে। তারা যেন এ ধরনের আচরণ থেকে বিরত থাকে। বাংলাদেশ তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চায়।
কমিটি পুনর্গঠন
এই অধিবেশনে দলের ১১ সদস্যের প্রেসিডিয়াম, ১৪ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ এবং ৪৮ সদস্যবিশিষ্ট মজলিশে আমেলা বা কার্যনির্বাহী পরিষদ পুনর্গঠন করে তাঁদের নাম ঘোষণা করেন ইসলামী আন্দোলনের আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।



