বাবা দিবসে স্মৃতিচারণ: বাবার অবদান ও ভালোবাসার গল্প
বাবা দিবসে স্মৃতিচারণ: বাবার অবদান ও ভালোবাসা

বাবা দিবস উপলক্ষে এক মেয়ে তার বাবার প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। ছোটবেলায় বাবার হার্ট অ্যাটাকের পর মা চাকরিতে যোগ দিলে বাবাই একা দুই সন্তানকে মানুষ করেছেন। তিনি তাদের পড়াশোনার গুরুত্ব বোঝাতেন এবং সব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সন্তানদের নিরাপদ ও শিক্ষিত করে তোলেন।

হার্ট অ্যাটাক ও বাবার সংগ্রাম

লেখিকার বাবার বয়স ৪১ বছর ছিল যখন তার হার্ট অ্যাটাক হয়। তিনি তখন স্কুলে পড়েন। ডাক্তার চাচা বাসায় এসে চিকিৎসা দেন। ধীরে ধীরে সুস্থ হন ফুটবল খেলা ও পুলে সাঁতার কাটা বাবা। হাসপাতালে ভর্তি বা ওপেন হার্ট সার্জারি বহু বছর পর হয়; প্রাথমিক চিকিৎসা মেডিক্যাল ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে হয়।

মায়ের চাকরি ও বাবার একক দায়িত্ব

মা সরকারি চাকরিতে যোগ দেন ফেনী মহিলা কলেজে। লেখিকা ও তার ভাই খুলনায় বাবার সঙ্গেই থাকেন। বাবাই তাদের স্কুল-কলেজের সময়টা একা সামলান। মা ছুটিতে খুলনা আসতেন, কিন্তু সন্তানেরা বাবার কাছেই ছিল।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পড়াশোনার গুরুত্ব ও বাবার শিক্ষা

বাবা সবসময় বলতেন, 'মা, দুনিয়ার সবকিছু সবাই নিয়ে যেতে পারবে; কিন্তু তোমার বিদ্যাটুকু কেউ নিতে পারবে না। নিজের পায়ে তোমাকে দাঁড়াতেই হবে।' তিনি মেয়েকে পড়াশোনায় কঠোর থাকতে বলতেন, কিন্তু অন্য সব কার্যক্রমে অংশ নিতে দিতেন। ক্লাস এইটে স্কলারশিপ পাওয়ার পর বাবার মুখ হাঁড়ি কেন বা ইন্টার স্কুল ডিবেটে যেতে বাবা বিরক্ত হতেন, তখন লেখিকা বুঝতেন না। পরে বুঝতে পারেন তিনি মেয়েসন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন।

সিঙ্গেল প্যারেন্টিংয়ের চ্যালেঞ্জ

মা চাকরিতে চলে যাওয়ার পর বাবা নিজের কাজ নিজে করেছেন, খুকির মার রান্না করা খাবার মাসের পর মাস খেয়েছেন, সন্তানদের নিরাপদ জায়গায় মানুষ করেছেন। কোনো অভিযোগ শোনা যায়নি। লেখিকা মেডিক্যালে পড়ার সময় টাকা শেষ করে বারবার বাবাকে চট্টগ্রাম আনিয়েছেন টাকা দিয়ে যাওয়ার জন্য। বাবা শুধু বলতেন, 'আমার পাগলটা।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাবার শেষ সময় ও মায়ের সেবা

বাবা গত ডিসেম্বরে মারা যান। লেখিকার বোন আফসোস করেন মা একটু কম রিজিড হলে আরও কিছু করা যেত। কিন্তু লেখিকা জানেন, মা ছিলেন বাবার সবচেয়ে পছন্দের মানুষ। তাঁর হাতে খেয়ে, তাঁর হাতে সেবা পেয়ে বাবার শেষ মুহূর্ত কাটিয়েছেন। কোনো হাসপাতাল বা নার্স সেই শান্তি দিতে পারত না।

বাবার কাছ থেকে শেখা শিক্ষা

লেখিকা এখন নিজের সন্তানদের বড় করছেন। সিঙ্গেল প্যারেন্টিং কঠিন মনে হলেও তিনি বাবার কাছ থেকে শেখা সাহস ও ধৈর্য কাজে লাগান। তিনি বলেন, 'আব্বু, কত বছর আগে আপনি সব প্রতিকূলতাকে তুচ্ছ করে যা শিখিয়ে গেছেন, আমি এ সময়ে আপনার মেয়ে হয়ে কেন সেটা কাজে লাগাতে পারব না?'

পৃথিবীর সব ভালো বাবাদের বাবা দিবসের শুভেচ্ছা। লেখিকা বিশ্বাস করেন বাচ্চারা হয়তো বলতে পারে না, কিন্তু সব ভালোবাসা তাদের হৃদয়ে ধারণ করে। তিনি দোয়া করেন আল্লাহ তার বাবাকে বেহেশত নসিব করুন এবং তার সৎ জীবনযাপনের উত্তম প্রতিদান দিন।