সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাদক সেবনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইদুল ইসলামকে দলীয় পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন ৩১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
শনিবার (২০ জুন) রাতে আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইদুল ইসলামের মাদক সেবনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে তাকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
সাংগঠনিক ব্যবস্থা
শনিবার রাতে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর সাংগঠনিক ব্যবস্থা হিসেবে সাইদুল ইসলামকে সভাপতির পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়। পাশাপাশি গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। পরে নতুন ৩১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. কামরুজ্জামান কমল বলেন, ‘মাদক সেবনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় সাইদুল ইসলামকে শোকজ করা হয়েছিল। বিষয়টি তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাকে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।’
অব্যাহতিপত্রে আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. কামরুজ্জামান কমল, সাধারণ সম্পাদক আরিফ ইফতেখার আহ্মমেদ রানা এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সামিউল হাসান (ইমন) ও এম ইউ আহাম্মদ মোশাররফের স্বাক্ষর রয়েছে। অব্যাহতিপত্রে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে সাইদুল ইসলামকে গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির পদ থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অব্যাহতির পর তার সঙ্গে দলীয় কোনো কর্মকাণ্ডে কেউ জড়িত হলে তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজ দায়িত্বে হবে।
অভিযোগ অস্বীকার
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাটি পরিকল্পিত। আজ বিকেলে তদন্ত হয়েছে। আমার পক্ষে বেশির ভাগ লোকজন কথা বলেছেন। তদন্ত কমিটির সদস্যরা চলে যাওয়ার পর আমাকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি ভেঙে দেওয়ার বিষয়টি আমি জানি না।’



