সালিশ শেষে বিএনপি নেতা খুন, আদাবরে ছুরিকাঘাতে নিহত ১
সালিশ শেষে বিএনপি নেতা খুন, আদাবরে নিহত ১

রাজধানীর আদাবর থানার নবোদয় কাঁচাবাজার এলাকায় সালিশ বৈঠক শেষে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে আবুল বাসার বাদশা (৩০) নামে এক বিএনপি নেতা নিহত হয়েছেন। একই হামলায় ইউনিট বিএনপির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

হামলার বিবরণ ও হাসপাতালে নেওয়া

আহত দুই নেতাকে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে বাদশার অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে রাত সাড়ে ১১টায় তিনি মারা যান। সাদ্দাম বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

নিহতের পরিচয়

নিহত আবুল বাসার বাদশা ময়মনসিংহের নান্দাইল থানার গফুর মিয়ার ছেলে। তিনি আদাবর থানার নবোদয় হাউজিংয়ের বি ব্লকে থাকতেন এবং নবোদয় ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের বক্তব্য

ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা। তিনি বলেন, ‘গত ২৯ তারিখ ব্রাজিল-জাপান খেলাকে কেন্দ্র করে হাতাহাতি হয়, এর একদিন পর একই বিষয় নিয়ে ফের সংঘর্ষ বাধে। বুধবার রাত ৮টার দিকে নবোদয় বাজারের পাশে বিরোধ মীমাংসায় একটি সালিশ বৈঠক বসে, যার এক পর্যায়ে প্রতিপক্ষরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাদশা ও সাদ্দামকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে।’ তিনি জানান, ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালাচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঘটনার পটভূমি

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ জুন নবোদয় হাউজিং এলাকায় ব্রাজিল-জাপান ফুটবল ম্যাচ দেখার সময় স্থানীয় কয়েকজন যুবক বাঁশি বাজিয়ে হইচই করলে আদাবর থানা বিএনপির সদস্য হাবিব স্থানীয় ব্যবসায়ী মজনুর ছেলে নীরবকে চড়-থাপ্পড় মারেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। পরদিন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একই স্থানে নীরবের ভাই রিপনের সঙ্গে ইউনিট বিএনপির সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের মুখোমুখি অবস্থানে ফের হাতাহাতি হয়, যার পরিপ্রেক্ষিতে সাদ্দাম মোহাম্মদপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

সালিশ বৈঠক ও হামলা

এই বিরোধ মেটাতে বুধবার রাতে নবোদয় বাজারে বিচার-সালিশ বসে। সালিশ শেষ হতেই মাসুম, রবিন, নাহিদ, রিপন, নীরব, পারভেজ, মজনু, সুমন ও শহিদসহ কয়েকজন ধারালো ছুরি ও চাপাতি নিয়ে আকস্মিক হামলা চালান। হামলাকারীরা হাবিবের পক্ষের লোকজনসহ নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সভাপতি সাদ্দাম ও সাধারণ সম্পাদক আবুল বাসার বাদশাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন।

স্থানীয় সূত্রের তথ্য

স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, রিপন, নীরব, পারভেজ ও মাসুম কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য এবং স্থানীয় ১০০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মিরাজের অনুসারী বলে পরিচিত।