হবিগঞ্জে বিএনপি নেতা ফেরদৌস আহমেদ চৌধুরীর জামিন মঞ্জুর, আদালতে হাজির
হবিগঞ্জে বিএনপি নেতা ফেরদৌসের জামিন মঞ্জুর

হবিগঞ্জে বিএনপি নেতার জামিন মঞ্জুর, আদালতে হাজির হওয়ার পর মুক্তি

হবিগঞ্জে বাহুবল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং ফেসবুকে ভিডিও ক্লিপ দিয়ে হেয় করার অভিযোগে গ্রেপ্তার বিএনপি নেতা ফেরদৌস আহমেদ চৌধুরী জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। আজ সোমবার দুপুরে তাঁকে আদালতে হাজির করা হয় এবং শুনানি শেষে বিচারক তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।

গ্রেপ্তার ও মামলার পটভূমি

ফেরদৌস আহমেদ চৌধুরী বাহুবল উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গতকাল রোববার দুপুরে হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগর এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। বাহুবল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে দণ্ডবিধির টেলিযোগাযোগ অধ্যাদেশ ২০২৬–এর ৬৯ ধারায় এবং দণ্ডবিধির ১৮৯, ৫০৪ ও ৫০৬ ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেন।

থানা–পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার রাতে ব্যক্তিগত কাজে হবিগঞ্জের বাহুবল থানায় যান ফেরদৌস আহমেদ চৌধুরী। তিনি ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের কার্যালয়ে গিয়ে দেখেন, ওসির সঙ্গে গল্পগুজব করছেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য ও বাহুবল উপজেলা বিএনপির সদস্য মুখলেছুর রহমান। এ সময় ফেরদৌস আহমেদ ওসিকে প্রশ্ন করেন, ‘আমার ফোন ধরেন না কেন? এত রসিকতা করে গল্প করছেন, আমার ফোন ধরার সময় পান না।’ এরপর দুজনের মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ফেসবুকে ভিডিও ও অডিও ক্লিপের ঘটনা

থানা থেকে বের হয়ে ফেরদৌস তাঁর ফেসবুকে একটি ভিডিও দেন, যেখানে তিনি ওসির বিরুদ্ধে নানা অপরাধের অভিযোগ আনেন। ওই দিন রাতে ওসির সঙ্গে বিএনপি নেতা ফেরদৌসের অসৌজন্যমূলক আচরণের একটি অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। এই অডিওটি নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে সমালোচনার সৃষ্টি হয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি তদন্ত শুরু করে। গতকাল দুপুরের দিকে হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগর এলাকার নিজ বাসা থেকে ফেরদৌস আহমেদকে আটক করে পুলিশ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আদালতে হাজির ও জামিন মঞ্জুর

আজ সোমবার দুপুরে হবিগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তানজিনা রহমানের আদালতে ফেরদৌস আহমেদকে হাজির করা হয়। এ সময় পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে বলা হয় আসামি পুলিশের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছেন, তাই তাঁকে জামিন না দেওয়ার আবেদন করা হয়। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জামিন প্রার্থনা করেন। পরে বিচারক ৫ হাজার টাকার বন্ডে আসামির জামিন মঞ্জুর করেন।

হবিগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম বলেন, ফেরদৌস আহমেদ চৌধুরীকে জামিন দিয়েছেন আদালত। ৫ হাজার টাকার বন্ড দিয়ে তিনি মুক্তি পেয়েছেন। এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে এবং আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।