আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগদানের পর বর্তমান সরকারের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ইসহাক সরকার। তিনি আগে যে দলে ছিলেন, সেই দল গণতন্ত্র থেকে সরে গেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এনসিপিতে যোগদান ও বক্তব্য
আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশে (আইডিইবি) এক অনুষ্ঠানে ইসহাক সরকারসহ কয়েকজন নেতা এনসিপিতে যোগ দেন। তাঁদের ফুলের মালা পরিয়ে বরণ করে নেন এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
পরে অনুভূতি প্রকাশ করে অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে ইসহাক সরকার বলেন, ‘যৌবনের শ্রেষ্ঠ সময় আমাকে কারাগারে থাকতে হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্রদের সঙ্গে রাজপথে নেমে এসেছিলাম। আমি মনে করি, এনসিপির মাধ্যমেই এ দেশের মানুষের মুক্তি মিলবে।’
বর্তমান সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি
ইসহাক সরকার বলেন, ‘তাঁবেদারি ও ভারতীয় আধিপত্যবাদীদের বিরুদ্ধে আবারও মাঠে নামতে হবে। বর্তমান শাসকগোষ্ঠী আওয়ামী লীগের মতো একই কায়দায় ফ্যাসিবাদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হলে তাদের পতন ঘটানোর জন্য আমরা রাজপথে নেমে আসব, বেশি সময় নেব না।’
বিএনপিকে ইঙ্গিত করে দলটির সাবেক এই নেতা বলেন, ‘আমি আপস করতে শিখিনি। যে দলে ছিলাম, সেই দল গণতন্ত্র থেকে সরে গেছে। জুলাই অভ্যুত্থানের চৌদ্দ শ শহীদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করে কেউ টিকে থাকতে পারবে না। এই ছাত্র-জনতাকে কেউ দমাতে পারবে না।’
গণভোট ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ইসহাক সরকার বলেন, ‘দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন। এই গণরায়কে ভূলুণ্ঠিত করতে চাইলে প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ব।’
এ সময় এনসিপির রাজনীতিতে নিজের ভূমিকা সম্পর্কে ইসহাক সরকার বলেন, ‘সারা জীবন সততার সঙ্গে রাজনীতি করেছি। আপনারা (এনসিপি) আমাকে যে দায়িত্বই দেন, তা যেন ঈমান ও সততার সঙ্গে পালন করতে পারি। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমি জীবন দিতেও প্রস্তুত।’
‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’; ‘হাদি ভাইয়ের রক্ত, বৃথা যেতে দেব না’ প্রভৃতি স্লোগান দিয়ে ইসহাক সরকার বক্তব্য শেষ করেন।



