সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বারইয়া জামে মসজিদে মসজিদ কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) জুমার নামাজের সময় দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে মসজিদে আসা মুসল্লিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং নামাজে বিঘ্ন ঘটে।
সংঘর্ষের সূত্রপাত ও ঘটনাক্রম
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিদের মধ্যে ঝগড়া ও হাতাহাতি শুরু হয়। পরে একপক্ষ তাদের লোকজন নিয়ে মসজিদ থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর ওই পক্ষটি দেশীয় অস্ত্র যেমন লাঠিসোঁটা ও রাম দা নিয়ে মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রতিপক্ষের উপর হামলা চালায়। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। গ্রামের মহিলারা উভয়পক্ষকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে মসজিদের ভেতরে থাকা মুসল্লিরা মূল গেট বন্ধ করে দেন।
পুলিশের হস্তক্ষেপ
খবর পেয়ে উল্লাপাড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। উল্লাপাড়া মডেল থানার ওসির দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (তদন্ত) রূপু কর বলেন, 'খবর পেয়ে ফোর্সসহ আমি দ্রুত মসজিদ চত্বরে ছুটে আসি। পুলিশের প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে ওই গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।'
অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া
গ্রামের বাসিন্দা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উল্লাপাড়া পৌরসভার যুব বিভাগের সভাপতি মিজানুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, 'বারইয়া গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর গোলাম আউলিয়া দীর্ঘ দিন ধরে তার মনোনীত লোকজন দিয়ে মসজিদ কমিটি গঠন করে মসজিদটি পরিচালনা করে আসছিলেন। কিন্তু অনেক দিন ধরেই গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ উক্ত কাউন্সিলরের কথিত কমিটির প্রতি অনাস্থা আনে। এ নিয়ে অনেক দিন ধরেই গোলযোগ চলে আসছিল। শুক্রবার আউলিয়া তার লোকজন নিয়ে হামলা চালায়। এতেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।'
এ ব্যাপারে সাবেক পৌর কাউন্সিলর গোলাম আউলিয়ার সঙ্গে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এতে তার বক্তব্য জানা যায়নি। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।



