ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উত্তেজনা উপভোগ করতে দেশের লাখ লাখ ফুটবলপ্রেমী রাত জেগে ম্যাচ দেখার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বাংলাদেশের সময়ের সাথে আয়োজক দেশগুলোর পার্থক্যের কারণে প্রিয় দলের খেলা মিস না করতে অনেকেই ঘুমের ত্যাগ স্বীকার করছেন। তবে চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলেছেন, মাসব্যাপী এই টুর্নামেন্টে স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল না হলে মারাত্মক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে করণীয়
বিশেষজ্ঞদের মতে, বারবার রাত জাগা, অপর্যাপ্ত ঘুম, অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যারা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভুগছেন, তাদের জন্য এই অভ্যাস আরও বিপজ্জনক হতে পারে।
পর্যাপ্ত ঘুমের পরিকল্পনা করুন
ভারতের ফরিদাবাদের ফোর্টিস হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগের পরিচালক ড. বিনীত বাঙ্গা বলেন, ‘টানা কয়েক রাত জেগে খেলা দেখা এড়িয়ে চলুন। দেরিতে শুরু হওয়া ম্যাচের আগে অল্প সময়ের জন্য পাওয়ার ন্যাপ নিলে শরীরের ওপর চাপ কমে এবং ক্লান্তি দূর হয়।’ পর্যাপ্ত ঘুম না হলে স্নায়বিক ও বিপাকীয় সমস্যা বাড়তে পারে এবং পরের দিনের কর্মক্ষমতা ব্যাহত হয়।
খাবারের দিকে নজর দিন
রাতে খেলা দেখার সময় সাধারণত চিপস, ভাজাপোড়া খাবার ও কোমল পানীয় খাওয়ার প্রবণতা থাকে। চিকিৎসকরা বলেন, এসব খাবার হজমে ব্যাঘাত ঘটায় এবং ঘুমের ক্ষতি করে। ড. বাঙ্গা ভাজাপোড়া ও তৈলাক্ত খাবারের পরিবর্তে বাদাম, ফলমূল বা ঘরে তৈরি হালকা খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন। এতে সকালে অ্যাসিডিটি ও অলসতা কম হয়।
ক্যাফেইন নিয়ন্ত্রণ ও পানি পান
অনেকেই রাত জাগতে কফি, চা বা এনার্জি ড্রিংকের ওপর নির্ভর করেন। অতিরিক্ত ক্যাফেইন খেলা শেষের পরও ঘুমাতে বাধা দেয়। চিকিৎসকরা পর্যাপ্ত পানি পান করার এবং ক্যাফেইন সীমিত রাখার পরামর্শ দেন। ড. মহেশ্বরী বলেন, ‘শরীর হাইড্রেটেড রাখতে নিয়মিত পানি পান জরুরি। এটি ঘুম কম হওয়ার কারণে মাথাব্যথা ও ক্লান্তি দূর করতেও সাহায্য করে।’
চোখের সুরক্ষায় স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ
দীর্ঘক্ষণ টিভি, ল্যাপটপ বা মোবাইল স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখের ওপর চাপ পড়ে। ঘরে পর্যাপ্ত আলো রাখা, স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা কমানো এবং মাঝে মাঝে চোখকে বিশ্রাম দেওয়া জরুরি। ব্লু-লাইট ফিল্টার ব্যবহার করলেও চোখের চাপ কমে।
হাফটাইমে শরীর সচল রাখুন
একটানা বসে থাকলে পেশি শক্ত হয়ে যায় ও রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা হয়। হাফটাইমের ১৫ মিনিটের বিরতিতে উঠে দাঁড়ানো, স্ট্রেচিং করা বা হাঁটাহাঁটি করলে রক্ত সঞ্চালন সচল থাকে।
দীর্ঘস্থায়ী রোগীদের বিশেষ সতর্কতা
ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগীদের জন্য রাত জাগা আরও ঝুঁকিপূর্ণ। ড. বাঙ্গার মতে, ঘুমহীনতা এই রোগগুলোর ঝুঁকি বাড়ায়। রোগীদের খেলার উত্তেজনায় ওষুধ খেতে ভুলে না যাওয়া, খাবার এড়িয়ে না যাওয়া এবং শরীরের কোনো লক্ষণ অবহেলা না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সচেতনভাবে উপভোগ করুন বিশ্বকাপ
ফিফা বিশ্বকাপ বিশ্বের অন্যতম বড় ক্রীড়া উৎসব। একটু সচেতনতা ও পূর্ব পরিকল্পনার মাধ্যমে স্বাস্থ্য ঠিক রেখেই এই আনন্দ উপভোগ করা সম্ভব। ম্যাচের আগে ছোট ঘুম, স্বাস্থ্যকর খাবার, পর্যাপ্ত পানি, সীমিত ক্যাফেইন এবং হাফটাইমে হাঁটাচলা আপনাকে পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে প্রাণবন্ত রাখবে। ড. মহেশ্বরীর ভাষায়, ‘প্রতিটি গোল উপভোগ করার পাশাপাশি সুস্থ থাকাও সম্ভব। সামান্য কিছু স্মার্ট সিদ্ধান্ত আপনাকে খেলার রাতেও সতেজ রাখবে এবং পরের দিন কাজের জন্যও কর্মক্ষম রাখবে।’



