টাঙ্গাইলে এনসিপির পদযাত্রা সমাবেশ
মঙ্গলবার রাতে টাঙ্গাইল শহরের নিরালা মোড়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রা কর্মসূচি উপলক্ষে আয়োজিত পথসভায় দলের আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বক্তব্য দেন। তিনি দুর্নীতি ও টাকা পাচারকে দেশের মূল সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেন।
দুর্নীতি ও টাকা পাচারের অভিযোগ
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমাদের দেশের মূল সমস্যা হলো সেই লুটপাট, টাকা পাচার। আপনাদের কাছে কি মনে হয় এই সরকারের সময়ে কোনো দুর্নীতি, লুটপাট, টাকা পাচার হবে না? অবশ্যই হবে। কারণ, তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে নাই।’ তিনি আরও বলেন, বিগত সময়ে বাংলাদেশ থেকে কয়েক শ বিলিয়ন টাকা ও ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। ‘যেই টাকাগুলো যদি দেশে থাকত, কয়েকটা পদ্মা সেতু আমরা নিজেদের টাকায় বাংলাদেশে করতে পারতাম। কয়েকটা মেট্রোরেল আমরা নিজেদের টাকায় করতে পারতাম। আমাদের তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে পারতাম। শিল্পকারখানা নিশ্চিত করতে পারতাম,’ যোগ করেন তিনি।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি
দেশব্যাপী পদযাত্রা কর্মসূচির প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সবাই ধরে নিয়েছিল, শেখ হাসিনা যত দিন জীবিত আছে, তত দিন তিনি ক্ষমতায় থাকবে। কিন্তু তাকে ক্ষমতা থেকে হটানো সম্ভব হয়েছিল। কেন সম্ভব হয়েছিল? আপনাদের অংশগ্রহণে, সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণে। আজকে যারা জীবন দিল, যারা আহত হলো, আমাদের তিরিশ হাজার আহত যোদ্ধা ভাইবোনেরা, তাদের এই আত্মত্যাগের মূল্য থাকবে না। মূল্যহীন হয়ে যাবে যদি দেশের কোনো পরিবর্তন না হয়। কারণ, আমরা স্পষ্টভাবে বলেছিলাম, আমাদের আন্দোলন শুধু আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে না, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে না। আমাদের আন্দোলন হচ্ছে দেশ পরিবর্তনের আন্দোলন, রাষ্ট্র সংস্কারের আন্দোলন। ফলে সেই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য আমরা এসেছি।’
সংস্কারের পক্ষে জনমত
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের যৌক্তিকতা তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচনে আমরা সংস্কারের পক্ষে ভোট দিয়েছি, “হ্যাঁ”–এর পক্ষে ভোট দিয়েছি। বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ মানুষ এই হ্যাঁ–এর পক্ষে ভোট দিয়েছে। আর সরকার যারা গঠন করেছে, তারা মাত্র চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ শতাংশ ভোট পেয়ে সরকার গঠন করেছে। তার মানে যারা সরকার গঠন করেছে, তাদের থেকেও বেশি জনমত হলো সংস্কারের পক্ষে, জুলাই সনদের পক্ষে। কিন্তু আমরা দেখতে পেলাম ন্যক্কারজনকভাবে এই বিএনপির সরকার গঠিত হওয়ার পর ক্ষমতায় একবার বসতে পেরে জনগণের এই স্বীকৃতিকে, এই গণভোটকে অস্বীকার করা শুরু করেছে। তারা এখন পর্যন্ত গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করে নাই। সংস্কার বাস্তবায়ন করে নাই। যদি সংস্কার বাস্তবায়ন না হয়, দেশে কোনো পরিবর্তন হবে না।’
সারজিস আলমের বক্তব্য
এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন, ‘আমরা আপনাদের কাছে কিছু জনরায় নিতে এসেছি। আমরা যখন সংসদে আমাদের সরকারি দলের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের কথা শুনি, আমরা যখন বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্যে সরকার দলের বিভিন্ন বড় বড় নেতৃবৃন্দের কথা শুনি, তখন আমাদের কাছে মনে হয় বাংলাদেশে আর কোনো সমস্যা নাই। এই জন্য আমরা কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে আপনাদের কাছে ছুটে এসেছি। কারণ, আপনারা আমরা সাধারণ জনগণ মানেই তো বাংলাদেশ। এখন সাধারণ জনগণকে রায় দিতে হবে, এই সমস্যাগুলো আছে কি নাই। আপনারা আপনাদের জায়গা থেকে রায় দিন।’ তিনি সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রাখেন, ‘এই টাঙ্গাইলে লোডশেডিং হয় কি হয় না? এই টাঙ্গাইলে বিদ্যুৎ যায় কি যায় না? এক ভাই বলছেন, টাঙ্গাইলে ঠিকমতো বিদ্যুৎই আসে না। তাহলে বিদ্যুৎ যাওয়ার প্রশ্ন আসে কীভাবে?’
অন্যান্য বক্তারা
সমাবেশে এনসিপি ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দার, টাঙ্গাইল জেলা শাখার আহ্বায়ক কামরুজ্জামান শাওন, সদস্যসচিব মাসুদুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য দেন।



