নীরব চাঁদাবাজি বন্ধে ব্যবসায়ীদের পাশে জামায়াত আমির
নীরব চাঁদাবাজি বন্ধে ব্যবসায়ীদের পাশে জামায়াত আমির

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ব্যবসায়ীরা চাইলে নীরব চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে তারা প্রস্তুত আছেন। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর মিরপুর-১ এলাকার শাহ আলী পাইকারি বাজার পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

বাজার পরিদর্শনে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ

বাজার পরিদর্শনকালে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, সরকারিভাবে পাঁচ হাজার টাকায় ভাড়া দেওয়া রাজধানীর মিরপুর শাহআলী কাঁচা বাজারে দোকান দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত ভাড়া দিচ্ছে বরাদ্দ পাওয়া মালিকরা। যেটা ব্যবসায়ীদের জন্য বাড়তি চাপ, সঙ্গে চলছে নীরব চাঁদাবাজি। কারা করছে চাঁদাবাজি তা বলতেও ভয় পাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

প্রতিরোধের আহ্বান

এ প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রতিরোধ করতে হবে সম্মিলিতভাবে। ব্যবসায়ীরা চাইলে প্রতিরোধের জন্য আমরা প্রস্তুত আছি। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আগের থেকে বাজার অস্থির। ইদানিং মনে হচ্ছে আরও একটু বেশি অস্থির। কেন অস্থির? এই যে একটা বিশাল মার্কেট রয়েছে। এখানে দোকানদার বলছেন, নীরব চাঁদাবাজি আছে। কথা বলতে চায়, তাদের চেপে রাখা হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, এখানে তো আফ্রিকার জঙ্গল থেকে এসে কেউ চাঁদাবাজি করে না। এখানেই আমাদের সঙ্গে চলাফেরা করে, উঠাবসা বসবাস করা লোকেরাই চাঁদাবাজি করে। তাদের পরিচয় আমরা সবাই জানি।

সংসদ সদস্যদের ভূমিকা

বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, সংসদ সদস্যরা চাইলে দেশে চাঁদাবাজি বন্ধ করা সম্ভব। জনগণের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে এমন কার্যক্রম বন্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। মানুষের নাভিঃশ্বাস উঠে গেছে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিশেষ করে যারা স্বল্প আয়ের মানুষ, তাদের অবস্থা এখন বেঁচে থাকাই কঠিন হয়ে গেছে। আমাদের নাগরিক দায়িত্ব, জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছে। আমরা আজকে মহড়া দিতে আসিনি, বাজারটাকে বুঝতে এসেছি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি বলেন, আমরা বাজার বুঝতে এসেছি। আড়ত, খুচরা বাজার ও মোকাম সব জায়গার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবো। আমরা যারা ভোক্তা আছি, আমরা ন্যায্য মূল্যে আমাদের পণ্যগুলো পাই না। কৃষক তার মূল্যের, তার মানে উৎপাদিত মূল্যের ন্যায্য মূল্য পায় না। মাঝখানে অন্যদের পেটে ঢুকে যায়। আমরা ওটা ভাঙতে চাই। কোন দিন ভাঙতে পারবো আল্লাহ ভালো জানে। কিন্তু আমাদের লড়াই শুরু হয়েছে। এই লড়াই চলবে, আমরা থামবো না। আমাদের আওয়াজ, আমাদের প্রতিবাদ, আমাদের দাবি সংসদের ভেতরে এবং বাইরে সব জায়গায় অব্যাহত থাকবে।

সবার অংশগ্রহণে দেশ গড়া

তিনি বলেন, দেশটা আমরা সবাই মিলেই ভালো করতে পারবো। একা কেউ পারবে না। একা কোনো দলও পারবে না। জনগণের সহযোগিতা দরকার। দেশ জনগণের। দেশের মালিকও জনগণ।

এ সময় এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তির নামে দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তারা নিজেরা ব্যবসা না করে সাধারণ ব্যবসায়ীদের কাছে উচ্চ ভাড়ায় দোকান ভাড়া দিচ্ছেন। তিনি বলেন, আরও কিছু আছে যেমন মাদকের একটা সমস্যা আছে। নীরব চাঁদাবাজি চলছে। আমরা এখানে ব্যবসা করেও চাঁদা দিতে হয়।

প্রতিরোধের প্রস্তুতি

জামায়াত আমির ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন, এখন জায়গায় জায়গায় কি নীরবে চাঁদা দিয়েই যাবেন, সহ্য করবেন, নাকি বন্ধ করতে প্রতিরোধ করা লাগবে? জামায়াত আমির বলেন, ব্যবসায়ীরা চাইলে প্রতিরোধের জন্য আমরা প্রস্তুত আছি। সবাই প্রস্তুত হবেন, প্রস্তুত আমরা। সবাই মিলে প্রতিরোধ করবো।

তিনি বলেন, আমরা সংসদের ভেতরে বলেছি, এখানেও বলেছি। জনগণের দুঃখ কষ্টের কথা বলেছি। সামগ্রিকভাবে আমার বেশিরভাগ কথা ছিল জাতীয় জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত। এগুলো নিয়ে মাঠে নামবো, আওয়াজ তুলবো, জনগণকে সংগঠিত করবো এবং একটা সময়ের ব্যবধানে এই যন্ত্রণা থেকে আমরা জনগণকে মুক্ত করবো ইনশাল্লাহ। তাহলে জনগণ কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়ে যেতে পারে। সামাজিক সচেতনতা যখন বাড়বে তখন আমরা সবাই মিলে দুষ্কৃতিকারী, দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজদের রুখে দিতে পারবো।