পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারুইপুরে কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় বিচারের দাবিতে রোববার সন্ধ্যায় কলকাতার কালীঘাটে মোমবাতি মিছিল করেছেন। নিজের কালীঘাটের বাসভবনের সামনে থেকে মিছিল শুরু করেন তিনি।
নিরাপত্তা বাহিনীর বাধা ও মিছিলের গতিপথ
তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে গলির মুখে পৌঁছাতেই কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী মিছিলের পথ আটকে দেয়। তবে কিছু সময়ের মধ্যেই মিছিল এগিয়ে যায় এবং কর্মসূচি অব্যাহত থাকে। মিছিলে মমতার সঙ্গে দলীয় নেতা-কর্মী, জনপ্রতিনিধি এবং সমর্থকেরা অংশ নেন। তাদের হাতে ছিল জ্বালানো মোমবাতি।
স্লোগান ও দাবি
বারুইপুরের নিহত কিশোরীর জন্য বিচার এবং নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। মিছিল শুরুর কিছুক্ষণ আগে তৃণমূল কংগ্রেস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বার্তায় রাজ্য সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে। দলটির অভিযোগ, বারুইপুরের ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বারুইপুরের ঘটনার প্রেক্ষাপট
বারুইপুরে কিশোরীর মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে গত কয়েক দিন ধরে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার পর এলাকায় বিক্ষোভ, সংঘর্ষ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিধিনিষেধও জারি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। কিশোরীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং অভিযোগের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বারুইপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একদিকে বিচারের দাবিতে আন্দোলন জোরদার হচ্ছে, অন্যদিকে ঘটনাকে ঘিরে শাসক ও বিরোধী শিবিরের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হচ্ছে। বারুইপুরকাণ্ডের তদন্ত এবং তা ঘিরে রাজনৈতিক কর্মসূচির দিকে এখন নজর রয়েছে গোটা রাজ্যের।



