আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার আদালতের আছে বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) এক রিট আবেদনের শুনানিতে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম রশিদুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।
রিটের বিষয়বস্তু
রিটকারী আইনজীবী মো. মোশাররফ হোসেন কাজল আদালতে যুক্তি তুলে ধরেন যে, আওয়ামী লীগ একটি সন্ত্রাসী সংগঠনে পরিণত হয়েছে এবং দলটির নেতারা দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত। তিনি দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণার নির্দেশনা চান। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায় বলেন, বিষয়টি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের আওতায় পড়ে, আদালতের এখতিয়ার সীমিত।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
শুনানি শেষে হাইকোর্ট বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার আদালতের আছে। আমরা এ বিষয়ে আইনগত সিদ্ধান্ত নেব।’ আদালত রিটকারীকে পরবর্তী শুনানির জন্য প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। পরবর্তী শুনানির তারিখ ২৫ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রতিক্রিয়া
রিটকারী আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, ‘আদালতের রায়ে আশাবাদী। আমরা আশা করি, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করে দেশকে সন্ত্রাসমুক্ত করা সম্ভব হবে।’ অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে দলটির একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এটি একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা। আদালত সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন।’
আইনি বিশ্লেষণ
বিশেষজ্ঞ আইনজীবীদের মতে, সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার এখতিয়ার সরকারের নির্বাহী বিভাগের। তবে আদালত যদি মনে করে কোনো দল রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি, তাহলে তিনি আইনি নির্দেশনা দিতে পারেন। সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন বলেন, ‘আদালতের পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারকেই নিতে হবে।’
রাজনৈতিক প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপিসহ বিভিন্ন বিরোধী দল করে আসছে। অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন দলটির সমর্থকরা বলছেন, এটি একটি ‘ভিত্তিহীন’ মামলা।
পরবর্তী পদক্ষেপ
আদালত ২৫ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন। এদিন রিটকারী ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা তাদের যুক্তি উপস্থাপন করবেন। তখনই স্পষ্ট হবে আদালত আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেন।



