রাজশাহীর দুর্গাপুরে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় সাবেক চেয়ারম্যান ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান শরিফ এবং সাবেক মেয়র ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাজেদুর রহমান মিঠুসহ ৭৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) দুর্গাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নওশাদ আলী মণ্ডল বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ১৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার তিনজন
এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন শিমুল আহমেদ (৩১), আতিকুর রহমান খোকন (৩০) ও মাসুদ রানা (৩২)।
মিছিলের বিবরণ
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সোমবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের ফলিয়ার বিল ব্রিজের উত্তর পাশে আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা ব্যানার নিয়ে ঝটিকা মিছিল করছেন। এজাহারে বলা হয়, মিছিলকারীরা 'জয় বাংলা', 'জয় বঙ্গবন্ধু', 'শেখ হাসিনার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই' ও 'অবৈধ নিষেধাজ্ঞা মানি না, মানবো না'সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তারা সরে যান।
শনাক্তকরণ ও অভিযোগ
পরে স্থানীয়দের বক্তব্য এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশিত ভিডিও ও স্থিরচিত্র পর্যালোচনা করে ১৩ জনকে মিছিলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়। এছাড়া 'শরীফ চেয়ারম্যান' নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে মিছিলের ভিডিও প্রচার করে মিছিলকারীদের প্ররোচনা, সহযোগিতা ও সমর্থন দেওয়ার অভিযোগে সাবেক চেয়ারম্যান শরিফুজ্জামান শরিফকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
এজাহারে আরও বলা হয়, সাজেদুর রহমান মিঠু ও শরিফুজ্জামানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় অন্য আসামিরা সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র, নৈরাজ্য সৃষ্টি এবং ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির উদ্দেশ্যে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন।
মামলার ধরন ও পরবর্তী পদক্ষেপ
দুর্গাপুর থানার ওসি পঞ্চনন্দ সরকার বলেন, ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে। এ মামলায় এজাহারভুক্ত ৮ নম্বর আসামি শিমুল আহমেদ এবং অজ্ঞাতনামা আসামি আতিকুর রহমান খোকন ও মাসুদ রানাকে আটক করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



