জুয়া, অনলাইন জুয়া, অনলাইন বেটিংসহ অনুরূপ কার্যক্রম প্রতিরোধে জাতীয় সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে। বিলে এ ধরনের অপরাধের জন্য অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। পরে বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
বিল উত্থাপন ও সংসদীয় প্রক্রিয়া
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৩তম দিন মঙ্গলবার (২৩ জুন) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি উত্থাপন করেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য জয়নুল আবেদীন।
বিল উত্থাপন করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “জুয়া, অনলাইন জুয়া, অনলাইন বেটিংসহ অনুরূপ কার্যক্রম প্রতিরোধ এবং এ-সংক্রান্ত অপরাধের দণ্ড নির্ধারণ ও আনুষঙ্গিক বিষয়ে বিধান প্রণয়নের লক্ষ্যে ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে।”
স্থায়ী কমিটিতে প্রেরণ
পরে তিনি বিলটি পরীক্ষা করে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব করেন। কণ্ঠভোটে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। স্থায়ী কমিটির পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বিলটি প্রতিবেদন আকারে সংসদে উপস্থাপন করা হবে।
মন্ত্রিসভায় অনুমোদন
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার দশম বৈঠকে আইনের খসড়াটি অনুমোদন দেওয়া হয়। সেদিন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানায়, “সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে জুয়ার বিস্তারে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে। অনলাইন ও অফলাইনে বিভিন্ন ধরনের জুয়া কার্যক্রম সম্প্রসারিত হওয়ায় জনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রবণতা হ্রাস এবং আর্থসামাজিক ও মানসিক ক্ষয়ক্ষতি প্রতিরোধে নতুন আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।”
পুরনো আইনের পরিবর্তন
এ কারণে ‘দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭’ প্রয়োজনীয় সংশোধন ও হালনাগাদ করে যুগোপযোগী ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’-এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনের খসড়ায় জুয়াখেলা, জুয়ার স্থান, জুয়ার সরঞ্জাম, ডিজিটাল সম্পদ, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল ওয়ালেট, টোটালাইজেটর, অনলাইন ও দূরবর্তী জুয়া, বাজি বা পণ, বাজিকর, ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংসহ জুয়াসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ের সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে।
শাস্তির বিধান
এছাড়া অপরাধের ধরন অনুযায়ী অর্থদণ্ড, কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে আইনের খসড়াটি চূড়ান্ত করা হয়। মঙ্গলবার সংসদে বিল আকারে এটি উত্থাপন করা হয় এবং পরে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।



