প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: বৈশ্বিক যুদ্ধপরিস্থিতিতেও তেল-ডিজেলের দাম বাড়াইনি, ভর্তুকি দিচ্ছি
তারেক রহমান: তেল-ডিজেলের দাম বাড়াইনি, ভর্তুকি দিচ্ছি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বৈশ্বিক যুদ্ধপরিস্থিতির মধ্যেও বাংলাদেশ সরকার সবকিছু স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তেল-ডিজেলের দাম বাড়ানো হলেও জনদুর্ভোগ বিবেচনায় সরকার দাম বাড়ায়নি। এই খাতে প্রতিদিন শত কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েও সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

স্বাধীনতা পদক বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাধীনতা পদক-২০২৬ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবার প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পদক প্রদান করা হয়।

জাতীয় ঐক্যের আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন ইস্যুতে বিতর্ক থাকতে পারে বলে উল্লেখ করেন, তবে তা যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়। দেশের স্বার্থে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "বাংলাদেশের স্বার্থ বিরোধী চক্র কিন্তু এখনও সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে।" তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, "জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা।"

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মরণ ও পুরস্কারের গুরুত্ব

প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় জীবন উৎসর্গকারীদের স্মরণ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে গৌরবময় পুরস্কার স্বাধীনতা পুরস্কার, যা সবচেয়ে গৌরবজনক রাষ্ট্রীয় সম্মান। শহীদ জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে এই পুরস্কার প্রবর্তন করেন।

পুরস্কারপ্রাপ্তদের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, "আগামীর বাংলাদেশে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আপনাদের অবদান প্রেরণার উৎস হবে। বাংলাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে স্ব স্ব ক্ষেত্রে আপনাদের অবদান এবং সফল কর্মগুলো অদূর ভবিষ্যতে বিশ্ব দরবারেও সমাদৃত হবে বলে আমি প্রত্যাশা করি।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সরকারের অগ্রাধিকার ও চ্যালেঞ্জ

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি-দুঃশাসনে পর্যুদস্ত একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল শাসন কাঠামো এবং অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনজীবনে শান্তি-নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে এক বিশাল সংখ্যক কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী রয়েছে, এবং তাদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করাই এই মুহূর্তের বড় চ্যালেঞ্জ। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে শিক্ষা ব্যবস্থায় বিপর্যয় নেমে আসে, এবং ইন্টেরিম সরকারের সময়েও শিক্ষাব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরেনি। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক এবং কর্মমুখী করতে হবে, যা সরকার ইতোমধ্যেই শুরু করেছে।

নারী নিরাপত্তা ও অঙ্গীকার বাস্তবায়ন

তারেক রহমান বলেন, নারীদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে না পারলে কোনও উদ্যোগই সহজে সফল হবে না। এভাবে প্রতি সেক্টরকে চিহ্নিত করে সরকার কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের রায়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার আগেই বিস্তারিতভাবে দলীয় ইশতেহার ঘোষণা করা হয়েছিল। রাষ্ট্র মেরামতের অঙ্গীকার নিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য স্বাক্ষর করা হয়েছিল, এবং জনগণ প্রতিটি অঙ্গীকারের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে। এবার অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পালা, এবং সরকার ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছে। তিনি বলেন, "দলীয় ইশতেহার এবং স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি দফা প্রতি অঙ্গীকার অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবো ইনশাআল্লাহ।"

ভর্তুকি ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা

প্রধানমন্ত্রী বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও সবকিছু স্বাভাবিক রাখার চেষ্টার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বিশ্বের সব দেশে তেল-ডিজেলের দাম বাড়ানো হলেও বর্তমান সরকার দাম বাড়ায়নি, এবং এই খাতে প্রতিদিন শত কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে। জনগণের সুবিধা নিশ্চিত রাখতে সরকার সম্ভাব্য সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে, কারণ সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ।

তিনি আস্বস্ত করতে চান যে জনগণের বিচলিত হওয়ার কারণ নেই, তবে রাষ্ট্রীয় আচার-অনুষ্ঠানে বাহুল্যবর্জন এবং পারিবারিক পর্যায়েও অমিতব্যয়িতা পরিহার করতে দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানান।