বিএনপি নেতা মীর হেলালের চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে সমানাধিকার ও উন্নয়নের রূপরেখা
পার্বত্য চট্টগ্রামে সমানাধিকার ও উন্নয়নের রূপরেখা দিলেন মীর হেলাল

পার্বত্য চট্টগ্রামে সমানাধিকার ও উন্নয়নের ভিশন নিয়ে কথা বললেন বিএনপি নেতা মীর হেলাল

যুক্তরাজ্যে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল ডিগ্রিধারী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মীর হেলাল বর্তমানে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের পরিচালক এবং এর লিগ্যাল রিসার্চ সেলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি ঢাকা ট্রিবিউনের সাংবাদিক তানভীর হাসানের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের উন্নয়ন, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

পার্বত্য অঞ্চলে সকল সম্প্রদায়ের সমান অধিকার নিশ্চিতকরণ

মীর হেলাল স্পষ্ট ভাষায় জানান, "বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মূল লক্ষ্য হলো বৈষম্যমুক্ত সমাজ গঠন। আমাদের ৩১ দফা এজেন্ডায়ও এই দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়েছে। আমরা একটি 'রেইনবো নেশন' গড়তে চাই, যেখানে সকল জাতিগোষ্ঠী, সম্প্রদায় ও গোষ্ঠীর মানুষ সমান সুযোগ ভোগ করবে।"

তিনি উল্লেখ করেন যে পার্বত্য চট্টগ্রামে ১৩টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসহ মোট ১৪টি সম্প্রদায় একসাথে বসবাস করছে। তাদের লক্ষ্য হলো উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার সুফল থেকে সকল সম্প্রদায় সমানভাবে উপকৃত হবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শিক্ষা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অভাব মূল চ্যালেঞ্জ

বর্তমান পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে গিয়ে মীর হেলাল দুটি প্রধান ঘাটতির কথা তুলে ধরেন:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • শিক্ষার আলোর অভাব: অঞ্চলটিতে প্রয়োজনীয় মাত্রায় শিক্ষার আলো পৌঁছায়নি।
  • অর্থনৈতিক স্বাধীনতার সংকট: অধিকাংশ মানুষ অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত।

তিনি বলেন, "এখানে অবকাঠামো উন্নয়ন, বিশেষ করে সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন প্রয়োজন। শিক্ষা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপদ পানীয় জলের সুযোগ বৃদ্ধি করতে পারলে অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে।"

প্রাথমিক স্তরে ৬০-৭০% শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার কারণ

পার্বত্য অঞ্চলের প্রায় ২ লক্ষ ৫০ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ প্রাথমিক স্তরেই পড়াশোনা ছেড়ে দেয়। এই সমস্যা সমাধানে মীর হেলাল বলেন:

  1. অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অপরিহার্য: পরিবারের দারিদ্র্যের কারণে শিশুরা পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে না।
  2. সামাজিক নিরাপত্তা বলয়: স্বাস্থ্য কার্ড, পরিবার কার্ড ও কৃষক কার্ডের মাধ্যমে তাদের আর্থিক সংকট কমানো হবে।
  3. দূরবর্তী অঞ্চলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভাব: সড়ক যোগাযোগ উন্নত না হলে স্কুল বা হাসপাতাল নির্মাণ কঠিন।

"যখন মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হবে, তখন শিক্ষার হার বাড়বে এবং ঝরে পড়ার হার কমবে। অনেক শিশু পরিবারের প্রয়োজনে অল্প বয়সেই কাজ করতে বাধ্য হয়," যোগ করেন তিনি।

যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান ও পর্যটন উন্নয়ন পরিকল্পনা

তরুণ মন্ত্রী হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রামের যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা সম্পর্কে মীর হেলাল বলেন:

  • ক্রীড়া একাডেমি প্রতিষ্ঠা: অঞ্চলটিতে একটি স্টেডিয়াম ও স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
  • সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন: পার্বত্য অঞ্চলের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিশ্বদরবারে তুলে ধরা হবে।
  • ভূমি বিরোধ সমাধান: আলোচনার মাধ্যমে সকলের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হবে।

পর্যটন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্পর্কে তিনি বলেন, "এখানে কৃষি, ফল উৎপাদন ও রাবার শিল্পে বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা প্রথমে কৃষিকে আধুনিকায়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা উন্নত করব। ইকো-ট্যুরিজমকে অগ্রাধিকার দেব, যাতে পার্বত্য অঞ্চলের পরিবেশের ক্ষতি না হয়।"

তিন বছরের মধ্যে সেরা পর্যটন গন্তব্য গড়ার লক্ষ্য

পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষদের উদ্দেশ্যে মীর হেলালের বার্তা খুবই সরল: "আমরা এমন একটি রেইনবো নেশন গড়তে চাই, যেখানে সকল ধর্ম, জাতিগোষ্ঠী, সম্প্রদায় ও মতামতের মানুষ একসাথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।"

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে পাঁচ বছর নয়, মাত্র তিন বছরের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম উপমহাদেশের সেরা পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হবে। সকল সম্প্রদায়ের সমন্বিত প্রচেষ্টা ও সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এই লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।