ঝিনাইদহে ভাঙা দলীয় কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি টাঙিয়ে চাঞ্চল্য
ঝিনাইদহে ভাঙা কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু-হাসিনার ছবি টাঙিয়ে চাঞ্চল্য

ঝিনাইদহে ভাঙা দলীয় কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি টাঙিয়ে চাঞ্চল্য

ঝিনাইদহে আগুন ও ভাঙচুরের শিকার আওয়ামী লীগের পরিত্যক্ত কার্যালয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি টাঙিয়ে ফুলের মালা দেওয়া হয়েছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে ফেসবুকে প্রকাশিত একটি ছবিতে এই দৃশ্য দেখা গেছে, যেখানে জেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে।

কার্যালয়ের ইতিহাস ও বর্তমান অবস্থা

ঝিনাইদহ পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি অমিয় মজুমদার জানান, ২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে নেতাকর্মীরা শিল্পকলা একাডেমির পাশে অবস্থিত জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর ছবি ও শেখ হাসিনার ছবি টাঙিয়ে তাতে ফুলের মালা দেন। এই সময় পৌর আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা–কর্মী উপস্থিত ছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এই কার্যালয়টি ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট গণ–অভ্যুত্থান চলাকালে আগুন দেওয়া হয়, যেখানে আন্দোলনকারীরা অংশ নেন। পরদিন ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে আবারও সেটি ভাঙচুর করা হয়। কার্যালয়ের এসি, চেয়ার–টেবিলসহ যাবতীয় আসবাব লুট হয় এবং পরে দরজা–জানালা খুলে নেওয়া হয়। অনেকেই সেখানে মলমূত্র ত্যাগ করেন, যা কার্যালয়টিকে দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় রেখেছিল।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সামাজিক মাধ্যমের প্রতিক্রিয়া ও রাজনৈতিক প্রভাব

এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন মন্তব্য ও বিশ্লেষণ করছেন। আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত) নেতাকর্মীরা দাবি করেছেন যে, পরিত্যক্ত ওই কার্যালয়ে ছবি টাঙিয়ে তারাই ফুলের মালা দিয়েছেন, যা তাদের দলীয় আনুগত্য ও ঐতিহ্য রক্ষার একটি প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এই ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, বিশেষ করে গণ–অভ্যুত্থান ও সরকার পরিবর্তনের পরের প্রেক্ষাপটে। কার্যালয়টির পুনরুজ্জীবন বা স্মারক হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, যদিও আনুষ্ঠানিক কোনো পদক্ষেপ এখনো নেওয়া হয়নি।

ঝিনাইদহের স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনাকে একটি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন, যা দলীয় কার্যক্রম ও ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্নের গুরুত্ব তুলে ধরে। সামগ্রিকভাবে, এই ঘটনাটি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সম্প্রীতির ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।