বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, দেশে হামের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে এবং শতাধিক শিশু মারা গেছে। এই সংকটের জন্য প্রকৃত দায়ীদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, শুধু পূর্ববর্তী সরকারের ওপর দায় চাপিয়ে দিয়ে বর্তমান সরকার নিজেদের দায় এড়িয়ে যেতে পারে না। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও তদন্তের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা চাই না একটি শিশুও হামের কারণে মারা যাক।
চট্টগ্রামে এনসিপির যোগদান অনুষ্ঠান
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের জুলাই-বিপ্লব স্মৃতি হলে এলডিপি ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীদের এনসিপিতে যোগদান অনুষ্ঠানে অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। অনুষ্ঠানে সাবেক সিটি মেয়র মনজুর আলমের যোগ দেওয়ার গুঞ্জন থাকলেও তিনি যোগ দেননি।
সংস্কার ও বিচারের প্রসঙ্গ
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, আজ বাংলাদেশে নতুন করে একটি সংকট তৈরি হয়েছে। সংসদে বৃহত্তর চট্টগ্রামের একজন সদস্য অকপটে স্বীকার করেছেন যে, নির্বাচনের আগে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচন শেষে তাদের আসল রূপ প্রকাশ পেয়েছে এবং তারা কখনোই সংস্কারের প্রতি প্রকৃতভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন না। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংস্কার এবং জুলাই গণহত্যার বিচার বাস্তবায়ন করতে হলে তা এনসিপিকেই করতে হবে। সংস্কার ও বিচারের পক্ষে সংসদের ভেতরে ও বাইরে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে এবং সেই আন্দোলনের জন্য তরুণ প্রজন্ম ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী সব পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন প্রসঙ্গ
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, পশ্চিমবঙ্গ আমাদের পার্শ্ববর্তী অঞ্চল হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনের আগে কয়েক লাখ ভোটারের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের ওপর নির্যাতন ও তাদের ভোটাধিকার হরণের ঘটনা বাংলাদেশেও প্রভাব ফেলবে। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের পর বাংলাদেশের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেছে এবং বাংলাদেশকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।
হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্য
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন দলটির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, বিএনপির অসংখ্য নেতা-কর্মী আজ আমাদের কাছে এসে দুঃখ প্রকাশ করেন। তাঁরা ১৭ বছর ধরে নিজেদের অর্থ, শ্রম, সময় সবকিছু ব্যয় করেছেন, জেল খেটেছেন, নির্যাতন সহ্য করেছেন, মামলা-মোকদ্দমায় জর্জরিত হয়েছেন; কিন্তু আজ তাঁদের দুঃখ হয় কারণ বিএনপি হাইজ্যাক হয়ে গেছে আওয়ামী লীগের দ্বারা।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তা
এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম সমন্বয়কারী আরিফ মঈনুদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির ঢাকা দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকার, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিন, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব সাগুফতা বুশরা মিশমা, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক জুবাইর হাসান আরিফ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য জুবাইরুল আলম মানিক, কেন্দ্রীয় সংগঠক রাসেল আহমেদ প্রমুখ।
যোগদানকারী নেতা-কর্মীরা
এনসিপির দাবি, চট্টগ্রামে ৭০০ নেতা-কর্মী যোগ দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন এলডিপির কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট জাফর আহামদ চৌধুরী, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দল চট্টগ্রামের যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান মোহাম্মদ আবু তালেব, জাসাসের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. খায়রুল বারী আইরিশ, চিকিৎসক মালেকা আফরোজ, চট্টগ্রাম ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষক নাভিদ আহমদ চৌধুরী প্রমুখ।
নিরাপত্তা ও ঘটনা
চট্টগ্রামে এনসিপির অনুষ্ঠান ঘিরে প্রেসক্লাবের আশপাশে পুলিশের নিরাপত্তা ছিল। দুপুর থেকেই সেখানে এনসিপি, যুবশক্তি, ছাত্রশক্তি ও নারীশক্তির নেতা-কর্মীরা ভিড় করেন। অনুষ্ঠান শুরুর পর মিলনায়তনে মঞ্চের কোনায় নেতা-কর্মীদের হট্টগোল শুরু হয়। সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে নেতা-কর্মীদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন সাংবাদিক মিলনায়তনের দ্বিতীয় তলায় উঠে যেতে বাধ্য হন।



