প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমান বলেছেন, সরকার রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য করতে চায় না। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে জাতীয় ঐক্যই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি।
জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'জাতীয় ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। মতপার্থক্য থাকতে পারে, সেটা স্বাভাবিক। তবে দেশের স্বার্থে বাংলাদেশ সবার আগে। তাই নাগরিকদের জন্য সহজে বিচারপ্রাপ্তি, সরকারি সেবা হয়রানিমুক্ত করা এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।'
রোববার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলন উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে তাগিদ
প্রধানমন্ত্রী উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সময়মতো বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকারি ব্যয়ে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং কাজের গুণগত মান বজায় রাখা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মূল দায়িত্ব। তিনি কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত জটিল প্রক্রিয়া এড়িয়ে বাস্তবসম্মত, কার্যকর ও জনস্বার্থমুখী দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের আহ্বান জানান, যাতে সরকারি কর্মসূচির সুফল সময়মতো নাগরিকরা পেতে পারেন।
প্রশাসনে সততা ও যোগ্যতা
তারিক রহমান আরও বলেন, সরকারি প্রশাসনে পদায়ন, বদলি ও পদোন্নতিতে সততা, যোগ্যতা ও দক্ষতাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। তিনি প্রশাসনিক কাঠামোতে জবাবদিহি ও কার্যকারিতা জোরদার করতে শূন্য পদে দ্রুত ও স্বচ্ছ নিয়োগ, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের ভূমিকা বৃদ্ধি এবং সরকারি কর্মচারীদের জন্য উপযুক্ত সার্ভিস রুলস প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রবেশ করেছে, তাই সরকারি কর্মকর্তাদের সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত হতে হবে। তিনি বলেন, 'চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে যাতে সরকারি প্রশাসন আরও সময়োপযোগী, দক্ষ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হয়।'
সম্মেলনের উদ্দেশ্য
প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলেন, 'এই সম্মেলন কেবল মতবিনিময়ের আনুষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম নয়; বরং এখানে মাঠ প্রশাসনের বাস্তব অভিজ্ঞতা, সীমাবদ্ধতা, চাহিদা ও উদ্ভাবনী ধারণা সরাসরি জাতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রতিফলিত হতে পারে। আপনারা মাঠ পর্যায়ে সরকারের প্রশাসনিক প্রতিনিধি। পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা অপরিহার্য।'
বাজার স্থিতিশীলতা
তিনি আরও বলেন, 'নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম ইচ্ছামতো বৃদ্ধি বা মজুদ ও কারসাজির মাধ্যমে বাজার অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেওয়া যাবে না। কোনো সিন্ডিকেট বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা সহ্য করা হবে না। এ ক্ষেত্রে নিয়মিত বাজার মনিটরিং জোরদার করতে হবে। বাজার ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতা সরাসরি সামাজিক স্থিতিশীলতা ও জনগণের আস্থার সঙ্গে জড়িত।'
কৃষকদের ন্যায্যমূল্য
প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে বলেন, 'সার, বীজ, সেচ, সংরক্ষণ সুবিধা এবং তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। কৃষিকে শুধু উৎপাদনের বিষয় হিসেবে না দেখে গ্রামীণ জীবিকা, খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, গ্রাম থেকে শহরে অভিবাসন হ্রাস এবং সামগ্রিক স্থানীয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে দেখা উচিত।'



