সার্বভৌমত্বই সরকারের কাছে সর্বোচ্চ প্রাধান্য: মাহাদী আমিন
সার্বভৌমত্বই সরকারের কাছে সর্বোচ্চ প্রাধান্য

দেশের সার্বভৌমত্বই সরকারের কাছে সর্বোচ্চ প্রাধান্য বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন। তিনি বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে। নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আজ বাংলাদেশের জনগণ ও দেশের সার্বভৌমত্ব দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে এসেছে। জনগণ এবং দেশের সার্বভৌমত্বই বর্তমান সরকারের কাছে সর্বোচ্চ প্রাধান্য পাচ্ছে।

শ্রম দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য

শ্রম দিবসের অনুষ্ঠানে শুক্রবার (১ মে) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মাহাদী আমিন এসব কথা বলেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এ সভায় শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন।

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভিন্নতা স্বাভাবিক

উপদেষ্টা মাহাদী আমিন বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিএনপি ও অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলের আদর্শিক পার্থক্য স্বাভাবিক। যেমন অতীতে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পার্থক্য প্রযোজ্য ছিল, তেমনি বর্তমানে নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রেও তা দেখা যায়। তবে দেশকে এগিয়ে নেওয়া, গণতন্ত্র শক্তিশালী করা, জনগণের সমস্যার সমাধান এবং স্থিতিশীল সমাজ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সবার একত্রিত উদ্যোগে বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সংসদীয় অধিবেশন গতিশীল ও ফলপ্রসূ

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সংসদীয় অধিবেশনটি গতিশীল ও ফলপ্রসূ হয়েছে। রাজনৈতিক ভিন্নতা ও আদর্শিক অবস্থানকে পেছনে রেখে দেশের সর্বোচ্চ স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে যে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা জনগণের কল্যাণে বিএনপির রাষ্ট্রনীতির প্রকাশ। সংসদের প্রাণচাঞ্চল্য, সমস্যার গভীর আলোচনা, মুক্ত বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকারের প্রতি সম্মিলিত মনোভাবই জনগণের ক্ষমতায়নের প্রতীক। তিনি আশ্বাস দেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই ইতিবাচক ধারাবাহিকতা ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।

শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে বিএনপির পদক্ষেপ

মাহাদী আমিন বলেন, বিএনপি সরকার যতবার রাষ্ট্র পরিচালনায় এসেছে, ততবার শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। শ্রম আইন সংস্কার, মজুরি কমিশন গঠন, গার্মেন্ট শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ, শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন এবং শ্রমিক পরিবারের চিকিৎসা ও শিক্ষাসহ নানা কর্মসূচি এর মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের অগ্রগতি মূলত বিএনপি সরকারের নীতিমালার ফল।

শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার ধারাবাহিকতা

তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিটি সরকারের ধারাবাহিকতায় শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ আজও প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে অব্যাহত রয়েছে।

আইএলও কনভেনশন অনুসরণ

মাহাদী আমিন বলেন, বাংলাদেশে ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন আইএলও'র ৩৯টি কনভেনশন এবং একটি প্রোটোকল অনুসাক্ষর করা হয়েছে। সরকার আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শ্রমিকদের সময়মতো বেতন প্রদান, মজুরি পর্যালোচনা, নারী-পুরুষের সমান মজুরি এবং প্রবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষার জন্য প্রবাসীকার্ডসহ কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রত্যয়

তিনি বলেন, শ্রমিকদের নিরাপদ মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিতকরণে সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও দায়বদ্ধতার মাধ্যমে সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব হবে।