বিরোধী দলসহ সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের শেষ দিন আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “৭১ পরবর্তী বাংলাদেশ যেরকম শহীদের রক্তের ওপরে দাঁড়িয়েছিল, বর্তমান বাংলাদেশ এবং বর্তমান সংসদ একইভাবে হাজারও শহীদের রক্তের ওপরে দাঁড়িয়ে আছে। আমরা ছাড়া আপনারা পরিপূর্ণ নন, আপনারা ছাড়া আমরা পরিপূর্ণ নই।”
তারেক রহমান বলেন, “অধিবেশন শেষ। এই দিনে আমার এবং সরকারের অবস্থান থেকে আবার পরিষ্কার করে দিতে চাই। দেশের সঙ্গে, দেশের মানুষের সঙ্গে, বিরোধী দলের সদস্যের সঙ্গে যেকোনো আলাপ-আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি। আলোচনার ভিত্তিতেই আমরা সকলেই একসঙ্গে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবো। দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করবো।”
ধন্যবাদ জ্ঞাপন
স্পিকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমার, সরকার এবং সংসদের পক্ষ থেকে আপনাকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই, মাননীয় ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, চিফ হুইপবৃন্দ এবং সকল সংসদ সদস্যকে। আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই, বিরোধীদলীয় নেতা এবং বিরোধীদলীয় সকল সদস্যকে। কারণ, একটু আগেই আমি বলেছি— আমরা ছাড়া আপনারা পরিপূর্ণ নন, আপনারা ছাড়া আমরা পরিপূর্ণ নই।”
সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, “তারা এই দেড় মাস অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের, যারা এই সংসদকে সহযোগিতা করেছেন।”
সশস্ত্র বাহিনীকে ধন্যবাদ
সশস্ত্র বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা যদি আমাদের ধন্যবাদের তালিকায় তাদের না আনি সেটি অন্যায় হবে। ফ্যাসিবাদের পলায়নের পরে এই সশস্ত্র বাহিনী তাদের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করেছে দেশকে একটি সুশৃঙ্খল অবস্থার মধ্যে রাখার জন্য। আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সশস্ত্র বাহিনীর সকল সদস্যদের আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই, তাদের দায়িত্ব সঠিক সুন্দরভাবে পালনের জন্য।”
সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান
সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, “আসুন আমরা এই সবুজ চেয়ারের পবিত্রতা রক্ষা করি। যে দায়িত্ব, প্রত্যাশা ও আশা নিয়ে দেশের মানুষ আমাদেরকে পাঠিয়েছে এখানে, আসুন আমরা সেই দায়িত্ব ও কর্তব্যের সর্বোচ্চ সম্মান প্রদান করি। কারণ, দেশ ও জনগণ থাকলেই আমরা আছি। দেশ এবং জনগণ সম্মান যদি আমরা না করি তাহলে আমাদের রাজনীতি হয়তো ব্যর্থ হয়ে যাবে। সেজন্যই আমাদের প্রথম হচ্ছে দেশের জনগণ এবং এই প্রিয় মাতৃভূমি।”



