ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমান জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে নেওয়া কঠোর ব্যবস্থার বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, কী দোষ ছিল তারেক রহমানের, যে তার কোমর ভেঙে দেওয়া হলো? কী দোষ ছিল, যে চোখ বেঁধে তাকে টাঙিয়ে উপর থেকে ফেলে দেওয়া হলো?
১৯৯০ সালের আন্দোলনে প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে আমান উল্লাহ আমান বলেন, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় সর্বদলের ছাত্রঐক্য মিছিল ও সভা-সমাবেশ করছিল। তখন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গৃহবন্দি ছিলেন। সেই সময় আন্দোলনের দিকনির্দেশনা নিয়ে চিরকুট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছে দেওয়া হতো এবং আমাদের হাতে তুলে দেওয়া হতো, যাতে আমরা সেই অনুযায়ী আন্দোলন-সংগ্রাম পরিচালনা করতে পারি।
তিনি আরও বলেন, আজকের প্রধানমন্ত্রী শুধু বর্তমানের নেতা নন; ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। যদিও অনেকেই এ বাস্তবতা জানেন না।
ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী নির্যাতনের বর্ণনা
ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে আমান উল্লাহ আমান বলেন, পরবর্তীতে আমরা আক্রোশ ও আক্রমণের শিকার হই। ওয়ান-ইলেভেনের সময় আমাদের গ্রেফতার করা হয়, আমরা জেলে যাই। আমাদের কক্ষের দুই-তিনটি রুম পরেই আজকের প্রধানমন্ত্রী অবস্থান করছিলেন। পরে তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। সুস্থ অবস্থায় গেলেও ফেরার সময় তাকে স্ট্রেচারে করে নিয়ে আসা হয়।
তিনি আবারও প্রশ্ন তুলে বলেন, কী দোষ ছিল তারেক রহমানের, যে তার কোমর ভেঙে দেওয়া হলো? কী দোষ ছিল, যে চোখ বেঁধে তাকে টাঙিয়ে ওপর থেকে ফেলে দেওয়া হলো?
তারেক রহমানের রাজনৈতিক সক্রিয়তা
দেশের বাইরে থেকেও তারেক রহমানের রাজনৈতিক সক্রিয়তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরবর্তীতে তিনি বিদেশে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থেকেও বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। গত ১৭ বছরের আন্দোলনে তিনি সেখান থেকেই নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং আমাদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
তিনি দাবি করেন, তার আহ্বান ছিল—বিনা ভোটের এমপিদের সংসদ থেকে বের করে দিতে হবে। সেই আহ্বানকে সামনে রেখেই আমরা আন্দোলন চালিয়ে গেছি। আমরা বলেছি, অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকা সরকারকে বিদায় নিতে হবে এবং শেষ পর্যন্ত সেটিই হয়েছে।



