নতুন ব্যাংক নোট ও জাল নোট সংক্রান্ত উদ্বেগের প্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, দেশে জাল নোটের প্রচলন কার্যকরভাবে রোধে শক্তিশালী আইনগত কাঠামো, আধুনিক নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য এবং সমন্বিত প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি দৃঢ় বিশ্বাস প্রকাশ করেন যে, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে জাল নোটের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল করা সম্ভব হবে।
মঙ্গলবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৩তম দিনে চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জালাল উদ্দিনের নোটিশের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সংসদ সদস্যের নোটিশে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তড়িঘড়ি করে নতুন ডিজাইনের ব্যাংক নোট ছাপানো ও বাজারে প্রচলনের ফলে বিভিন্ন গুরুতর সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, নোটের ডিজাইনে ত্রুটি, নিম্নমানের গ্রাফিক্স, যথাযথ নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যের অভাব, সিকিউরিটি ফিচারের সামঞ্জস্যহীন বিন্যাস এবং অবস্থান সঠিক না হওয়ায় মুদ্রিত ব্যাংক নোটটি সহজেই জাল করা সম্ভব, ফলে বাজারে জাল নোটের প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
নোটিশে আরও বলা হয়, জাল টাকা বিস্তার, অবৈধ অর্থ ছাপানো ও নতুন ডিজাইনের ত্রুটিযুক্ত নোট প্রচলন একই সুতায় গাঁথা। দেশের মানুষের দুর্দশা লাঘবে কুচক্রকারীদের খপ্পর থেকে দেশ, জাতি ও অর্থনীতিকে নিরাপদ রাখতে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার লক্ষ্যে একটি সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়।
জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, জাল নোটের প্রচলন রোধে একটি খসড়া আইন প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে জাল নোট তৈরি বা প্রকৃত মুদ্রার অনুকরণে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। আইনটি কার্যকর হলে জাল নোটের প্রচলন নিয়ন্ত্রণে এবং শেষ পর্যন্ত নির্মূলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য উন্নত করছে এবং বাজারে পর্যাপ্ত মানসম্মত নোট সরবরাহ নিশ্চিত করছে। সরকার নীতিগত ও প্রযুক্তিগত— উভয় দিক থেকেই এই সমস্যার সমাধানে কাজ করছে। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে পরামর্শ করে যেকোনও প্রযুক্তিগত সমস্যা পর্যালোচনা করা হবে এবং ঘাটতি থাকলে তা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, নতুন সিরিজের ব্যাংক নোট ইতোমধ্যে চালু হয়েছে, যা বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য ও স্থাপত্যকর্মের অনুপ্রেরণায় ডিজাইন করা হয়েছে। এসব ডিজাইন দেশের খ্যাতিমান শিল্পীদের অংশগ্রহণে প্রস্তুত করা হয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রা ও নকশা কমিটির সুপারিশে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২-এর ২৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী অনুমোদিত হয়েছে। নতুন নোটগুলোতে পূর্বের তুলনায় উন্নত ও আধুনিক নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য যুক্ত করা হয়েছে। জনগণকে এসব পরিবর্তন সম্পর্কে গণমাধ্যম ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অবহিত করা হয়েছে।
মুদ্রা ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জিডিপি প্রবৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি এবং অচল নোট প্রত্যাহারের হার বিবেচনায় নিয়ে নোট ছাপানো হয়ে থাকে। জাতীয় মুদ্রার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা রক্ষায় সরকার আইনগত, প্রযুক্তিগত এবং প্রশাসনিক সব ধরনের ব্যবস্থা আরও জোরদার করবে।



