ছাত্রদলে গুপ্ত ছাত্রলীগের অনুপ্রবেশ: ব্যারিস্টার ফুয়াদ
ছাত্রদলে গুপ্ত ছাত্রলীগ অনুপ্রবেশ: ফুয়াদ

ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক, বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাতে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে এক মন্তব্যে বলেন, ছাত্রদলের ভেতরে গোপনে ছাত্রলীগের লোকজন প্রবেশ করে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। তিনি লিখেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী, আপনার ছাত্রদলকে সামলান! গুপ্ত ছাত্রলীগ ঢুকে যেভাবে ডুগডুগি বাজাচ্ছে, আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেভাবে নীরব অন্ধত্বের ভূমিকা পালন করছে, তাতে আপনার দেশ চালানোর কোনো কৃতিত্ব ফুটে উঠছে না।’

তিনি আরও লেখেন, ‘না, এগুলো সবই পরিকল্পিত— জনগণের দৃষ্টি আড়াল করে বড় কিছু ঘটে চলছে! A false flag operation in the making!’

ডাকসু নেতাদের ওপর হামলা

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) দুই নেতা হামলার শিকার হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে শাহবাগ থানার সামনে এ ঘটনার পর ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ১০ জন সাংবাদিকও হামলার শিকার হন। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা এ হামলা চালিয়েছেন বলে ছাত্রশিবির অভিযোগ করেছে। এদিকে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে আজ শুক্রবার জরুরি সাংগঠনিক সভা ডেকেছে ছাত্রদল।

ঘটনার বিবরণ

জানা গেছে, ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবির প্যানেলের সদস্য প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের আইডি থেকে এআই দিয়ে তৈরি একটি ছবি পোস্টের অভিযোগের ঘটনায় শাহবাগ থানায় দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে থানার সামনে হামলা ও মারধরের শিকার হন ডাকসু নেতা যুবাইর বিন নেছারী (এ বি জুবায়ের) ও মোসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঘটনার পর এ বি জুবায়ের ও মোসাদ্দিককে উদ্ধার করে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কক্ষে নেওয়া হয়। সে সময় থানার সামনে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীসহ বিক্ষুব্ধ একদল লোক অবস্থান নেন। এক ঘণ্টার বেশি সময় এই অবস্থা চলার পর জুবায়ের ও মুসাদ্দিককে শাহবাগ থানা জামে মসজিদের ফটক দিয়ে বের করে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এর আগে শাহবাগ থানায় শিবির ছাত্রদলের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ছাত্রদলের হামলায় অন্তত ১০ জন সাংবাদিক আহত হন। আহতরা সবাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (ডুজা)-এর সদস্য।

উভয় পক্ষের বক্তব্য

ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ বলেন, ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা বহিরাগতদের নিয়ে এ বি জুবায়ের ও মুসাদ্দিকের ওপর হামলা করেন।

এস এম ফরহাদের এ অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আন্তর্জাতিক সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে এ বি জুবায়েরসহ ছাত্রশক্তি ও শিবিরের নেতা-কর্মীরা থানায় এলে সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের মারধরের চেষ্টা করে। কিন্তু ঢাবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনসহ নেতা-কর্মীরা ঢাল হয়ে দাঁড়ান।